সবুজ পাহাড়ে মৃত্যুর দাগ

সাইফুদ্দিন তুহিন, চট্টগ্রাম

সারাদেশ

চট্টগ্রাম নগরীর চার থানা এলাকায় পাহাড় কাটার লাগাম টানা যাচ্ছে না। দিনদুপুরে খুলশী, বায়োজিদ বোস্তামী, আকবর শাহ, পাহাড়তলী এলাকায় চলে

2026-09-18T01:41:09+00:00
2026-09-18T01:41:09+00:00
 
  শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৩ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
চট্টগ্রাম নগরীর চার থানা এলাকা
সবুজ পাহাড়ে মৃত্যুর দাগ
সাইফুদ্দিন তুহিন, চট্টগ্রাম
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪১ এএম 
চট্টগ্রাম নগরীর খুলশী থানাধীন জালালাবাদ এলাকায় প্রকাশ্যে কাটা হচ্ছে পাহাড়। ছবি : সময়ের আলো
চট্টগ্রাম নগরীর চার থানা এলাকায় পাহাড় কাটার লাগাম টানা যাচ্ছে না। দিনদুপুরে খুলশী, বায়োজিদ বোস্তামী, আকবর শাহ, পাহাড়তলী এলাকায় চলে পাহাড় কাটা। সবশেষ গত ৭ সেপ্টেম্বর ৪০ হাজার ঘনফুট পাহাড় কাটার ঘটনা ধরা পড়ে খুলশী এলাকায়। পরিবেশ অধিদফতরের মামলার পর গ্রেফতার করা হয় দুজনকে। তবে বরাবরের মতো প্রকাশ্যে পাহাড় কাটায় জড়িত প্রভাবশালীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা বলছে, মূল হোতারা আড়াইলেই থাকছে। ধরা পড়ছে পাহাড় কাটায় নিয়োজিত শ্রমিকরা। এতে অভিযানের পর নতুন করে শুরু হয় পাহাড় কাটা।

পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলার চট্টগ্রামের বিভাগীয় কো-অর্ডিনেটর মনিরা পারভিন রুবা সময়ের আলোকে বলেন, আমরা নিয়মিত পাহাড় কাটা পর্যবেক্ষণ করি। চট্টগ্রাম শহরে দুই সপ্তাহ আগে বেলার উদ্যোগে পর্যবেক্ষণ করা হয়। এতে দেখা যায় পাহাড় কাটা অব্যাহত আছে এখনও। বিশেষ করে বায়োজিত বোস্তামী থানা এলাকার নাগিন পাহাড়, রূপসী পাহাড়সহ বিভিন্ন পাহাড় কাটা চলছে।

কেন পাহাড় কাটা বন্ধ হয় না এ প্রশ্নে তিনি বলেন, পাহাড় কাটায় জড়িত দুর্বৃত্ত চক্র শক্তিশালী। তাই পাহাড় কাটা বন্ধে প্রশাসন কখনো কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে না। না হয় দিনের বেলায় চোখের সামনে নগরীর অভ্যন্তরে পাহাড় কাটা কীভাবে সম্ভব।

চট্টগ্রামে গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে ভরাট দৃষ্টিনন্দন পাহাড় কাটা চলছে। অনেকটা ন্যাড়া হয়ে গেছে বিশাল বিশাল পাহাড়। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের গবেষণা অনুযায়ী একসময় নগরীতেই ছোট-বড় দুই শতাধিক পাহাড় ছিল। কিন্তু বেপরোয়া কাটার কারণে বিলুপ্ত হয়ে গেছে ১২০টি। নগরীর অন্তত ২০ বর্গকিলোমিটার পাহাড় নিশ্চিহ্ন করে ফেলা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা যায়, নির্বিচার পাহাড় কাটা হয়েছে নগরীর বায়েজিদ, খুলশী, পাঁচলাইশ, কোতোয়ালি ও পাহাড়তলী থানা এলাকায়। এই পাঁচটি এলাকায় ৮৮টি পাহাড় সম্পূর্ণ এবং ৯৫টি পাহাড় আংশিক কাটা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৭৪ শতাংশ পাহাড় কাটা হয়েছে পাঁচলাইশ এলাকায়। পাশাপাশি লালখান বাজার মতিঝর্ণা, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ, ওয়ার সিমেট্রি, ফয়স লেক, ষোলশহর, এমইএস কলেজ সংলগ্ন পাহাড়গুলো অনেকটাই নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। কেবল পাহাড়ের স্মৃতি চিহ্নের মতো আছে কিছুটা।

নগরীর অভ্যন্তরের পাশাপাশি নগরীর বাইরেও পাহাড় কাটা থেমে নেই। জেলার মিরসরাই, রাউজান, রাঙ্গুনিয়া এলাকায় প্রায় প্রতি মাসেই পাহাড় কাটার সংবাদ আসে গণমাধ্যমে। সীতাকুণ্ডের আলোচিত জঙ্গল সলিমপুরে পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে হাজারো প্লট। কয়েক মাস আগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় সন্ত্রাসীদের তৎপরতা কিছুটা কমেছে। তবে সুযোগের অপেক্ষায় আছে পাহাড় কাটায় জড়িত দুর্বৃত্তরা। প্রশাসনিক তৎপরতা শিথিল হলেই ফের জঙ্গল সলিমপুরে সদলবলে ফিরতে পারে দুর্বৃত্ত দল। এই আশঙ্কা স্থানীয়দের।

নগরীর মুরাদপুর এলাকায় বন গবেষণা ইনস্টিটিউটের চারটি পাহাড় কেটে নির্মাণ করা হচ্ছে বহুতল ভবন। এ ছাড়াও নগরীর আকারদীঘির পাড় এলাকায় বেশ বড় অংশজুড়ে পাহাড় কাটা হয়েছে। প্রশাসনিক তৎপরতায় বর্তমানে কাটা বন্ধ করেছে প্রশাসন। তবে প্রশাসনের নাগের ডগায় কীভাবে পাহাড় কাটা চলে তা বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দিয়েছে। নগরীর গুরুতা¦পূর্ণ স্থানে পাহাড় কাটা দেখে অনেকের মন্তব্য ‘দেখার কেউ নেই’।

পরিবেশ অধিদফতর সূত্র জানায়, পাহাড় কাটা বন্ধে অনেক আগেই আদালতের নিষেধাজ্ঞা আছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি জেলায় অবস্থিত সব পাহাড় কাটা বন্ধে ২০১১ সালে একটি জনস্বার্থমূলক মামলা (মামলা নং ৭৬১৬/২০১১) দায়ের করা হয়েছিল। ২০১২ সালের ১৯ মার্চ আদালত উল্লিখিত জেলায় সব পাহাড় কাটা বন্ধে প্রয়োজনীয় ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ প্রদান করেন। একই সঙ্গে আদালত উল্লেখিত এলাকায় পাহাড় কেটে কোনো আবাসন প্রকল্প বা ইটভাটা স্থাপন করা হয়ে থাকলে তা ভেঙে ফেলার নির্দেশ প্রদান করেন। পাশাপাশি বন উজাড় বন্ধ করতে এবং পাহাড়ি অঞ্চলে প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্যের অবিরাম প্রবাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেন।

পরিবেশ আইনবিদ সমিতি বেলা কর্তৃক দায়েরকৃত অন্য একটি জনস্বার্থমূলক মামলায় (৭৮৮৩/২০১৫) আদালত চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবর শাহ থানার অধীন উত্তর পাহাড়তলী মৌজায় অবস্থিত পাহাড় কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞার আদেশ প্রদান করেন। আদালতের সুস্পষ্ট আদেশ থাকা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন স্থানে পাহাড় কাটা অব্যাহত আছে। পরে বেলার উদ্যোগে পাহাড় কাটার বিরুদ্ধে আদেশ চেয়ে হাইকোর্ট বিভাগে আবেদন করা হয়েছিল। 

আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৩ সালের ৩১ জানুয়ারি চট্টগ্রাম বিভাগের (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি এবং খাগড়াছড়ি জেলাগুলো) সব পাহাড়ের তালিকা (দাগ, খতিয়ানসহ) এবং পাহাড়গুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন তৈরি করে আদালতে জমার নির্দেশ প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে আদালত ২০১২ সালের ১৯ মার্চে (রিট পিটিশন নং ৭৬১৬/২০১১) প্রদত্ত রায়ের আলোকে পাহাড় কাটা রোধে সরকারের সংস্থাগুলো কী কী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সে বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন। 

কিন্তু আদালতের নির্দেশনা সত্ত্বেও কখনো পাহাড় কাটা বন্ধে বড় ধরনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে পাহাড় নিধন চক্র সক্রিয় থাকে সবসময়। নগরীর এক অংশে কাটা বন্ধ করা হলে অন্য অংশে পাহাড় কাটা শুরু করা হয়। পাহাড় কাটা বন্ধে দুর্বৃত্তদের সঙ্গে প্রশাসনের চলে লুকোচুরি।

সবশেষ গত ৮ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর খুলশীর রূপসী হাউজিং সোসাইটি এলাকায় প্রায় ৪০ হাজার ঘনফুট পাহাড় কাটার অভিযোগে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পরিবেশ অধিদফতর। মামলার আসামিরা হলেন— মো. আবু বকর সিদ্দিক (৫৭) ও মো. ছাবের (৪৭)। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০)-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদফতরের চট্টগ্রাম মহানগর কার্যালয়ের সিনিয়র টেকনিশিয়ান মো. ওমর ফারুক বাদী হয়ে ৮ সেপ্টেম্বর খুলশী থানায় মামলাটি করেন। মামলার নম্বর ১৪।

মামলার এজাহার ও পরিবেশ অধিদফতরের তদন্ত প্রতিবেদনে জানানো হয়, পাহাড় কাটার খবর পেয়ে ৭ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে অধিদফতরের কর্মকর্তারা রূপসী হাউজিং সোসাইটির কাঁঠালগাঁও, পূর্ব নাসিরাবাদ এলাকায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনে সেখানে পাহাড় কেটে সমতল করার দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায়। কাটা অংশটির আনুমানিক দৈর্ঘ্য ৫০ ফুট, প্রস্থ ৪০ ফুট ও উচ্চতা ২০ ফুট বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ হিসাবে প্রায় ৪০ হাজার ঘনফুট পাহাড় কাটা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করে পরিবেশ অধিদফতর।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঘটনাস্থলে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছে পাহাড় বা প্লটের মালিকানা এবং পাহাড় কাটার বিষয়ে তথ্য জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু তারা সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেননি। পরে ভূমি অফিসের সহায়তায় জমির মালিকানা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করা হয়।


পরিবেশ অধিদফতরের কর্মকর্তারা রূপসী হাউজিং সোসাইটির সভাপতি সালাউদ্দিন, খুলশী ভূমি অফিসের উপসহকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তাফিজ বিল্লাহ এবং সংশ্লিষ্ট তদারককারীর উপস্থিতিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

প্রাথমিক তদন্তে পরিবেশ অধিদফতর বলেছে, অনুমোদন ছাড়া পাহাড় কাটার কারণে এলাকার পরিবেশ ও প্রতিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব পড়ছে। এ কারণে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

মামলার বাদী মো. ওমর ফারুক বলেন, ৭ সেপ্টেম্বর পাহাড় কাটার অভিযোগ পাওয়ার পরই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এর প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। পরিবেশ সংরক্ষণ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

খুলশী থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুর রহিম বলেন, পাহাড় কাটার ঘটনায় পরিবেশ অধিদফতর একটি এজাহার দিয়েছে। আমরা সেটি নিয়মিত মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছি। তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

পাহাড় ধসে মৃত্যু ঠেকানো যাচ্ছে না : নির্বিচার পাহাড় কাটার চরম খেসরাত দিচ্ছেন সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী লোকজন সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এদের বেশিরভাগ শ্রমজীবী। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রাম নগরীতে ৫-৭ জনের মৃত্যু এখন স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। গত ১৬ বছরে চট্টগ্রামে পাহাড় ধসে তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস বন্ধ হয়নি। বছরের পর বছর এভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাস ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও দীর্ঘস্থায়ী কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। বর্ষাকালে প্রবল বৃষ্টির সময় শুরু হয় দৌড়ঝাঁপ। পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়। এরপর বছরজুড়ে নতুন করে পাদদেশে স্থাপন করা হয় খুপরি ঘর। ভাড়ায় পরিচালনা করা হয় এসব ঘর। বছরের অন্য সময়ে প্রশাসন থাকে অন্ধ এমন ধারণা স্থানীয়দের। এ জন্য ভারী বর্ষণে পাহাড় ধসে মুহূর্তে হতাহতের ঘটনা ঘটে।

বাংলাদেশ পরিবেশ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আলীউর রহমান সময়ের আলোকে বলেন, বলতে গেলে নগরীর চার এলাকায় সবচেয়ে বেশি পাহাড় কাটা হচ্ছে। বিশেষ করে খুলশী, বায়োজিদ বোস্তামী, পাহাড়তলী ও আকবর শাহ থানা এলাকায় বেশি পাহাড় কাটা হয়। আর এই থানা এলাকায় আছে নগরীর বড় বড় পাহাড়ের অবস্থান। পাহাড় কাটায় জড়িতরা অনেক শক্তিশালী। প্রশাসন বাস্তবে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয় না। তাই পাহাড় ধসে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। ন্যাড়া হয়ে যাচ্ছে দৃষ্টিনন্দন পাহাড়। সেই সঙ্গে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে হতাহতের ঘটনাও বাড়ছে।

পাহাড় কাটা দেদার চলে জেলার বাইরে : নগরীর অভ্যন্তরে পাহাড় কাটা থামাতে নামেমাত্র অভিযান চললেও মফস্বল এলাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ। বিশেষ করে নগরীর বাইরে সীতাকুণ্ড, মিরসরাই, রাউজান ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় প্রতি বছর পাহাড় ধসে মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে। চলতি বছর জুনে মিরসরাই ও রাঙ্গুনিয়ায় পাহাড় ধসে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সেখানে কেবল মৃত্যুর পরই প্রশাসনের দেখা মেলে। সারা বছরই পাহাড় কাটা ঠেকাতে কোনো উদ্যোগ থাকে না।
মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কয়লা পশ্চিম সোনাই (জিলতলি) এলাকায় প্রায় সময় কাটা হয় পাহাড়। স্থানীয় এক ইউপি সদস্য ও প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায় পাহাড়গুলো কাটা হয় প্রকাশ্যে। পাহাড় কেটে সেই মাটি ট্রাকবোঝাই করে সরবরাহ করা হচ্ছে বিভিন্ন স্থানে। সংরক্ষিত ওই বনাঞ্চলে রাস্তা না থাকায় পাহাড় কাটা মাটি দিয়েই তৈরি করা হয় অবৈধ রাস্তা। সেই রাস্তা পাহাড় কাটা মাটি নেওয়ার জন্যই ব্যবহার করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, নির্বিচার কাটার কারণে ধ্বংস হচ্ছে পাহাড়ের জীববৈচিত্র্য ও উজাড় হচ্ছে গাছপালা। প্রভাবশালীদের ভয়ে কেউই পাহাড় কাটার প্রতিবাদ করার সাহস পায় না।

অন্যদিকে চলতি বছর বর্ষা মৌসুমে সীতাকুণ্ড ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় পাহাড় ধসে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। ওই দুই উপজেলার চিত্রও একই। হতাহতের ঘটনার পর উপজেলা প্রশাসন তৎপর হয়েছিল। এরপর পাহাড় কাটা অব্যাহত থাকলেও নির্বিকার আছে প্রশাসন। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।


সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে
  বিষয়:   সবুজ  পাহাড়  মৃত্যু  দাগ 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: