নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১২ বছরের এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলায় মূল অভিযুক্ত শিক্ষক আমানুল্লাহ মাহমুদী ওরফে সাগরকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৭ মে) নেত্রকোনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এই আদেশ দেন।
এর আগে গত ৬ মে সন্ধ্যায় পুলিশ সাগরকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল। শুনানি শেষে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় আসামিকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
র্যাব-১৪-এর একটি দল গত বুধবার ভোরে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে সাগরকে গ্রেফতার করে। র্যাব জানায়, গ্রেপ্তার এড়াতে সাগর বারবার জায়গা পরিবর্তন করছিলেন এবং মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধ রেখেছিলেন। তবে গ্রেফতার ঠিক আগের দিন তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও বার্তা ছেড়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
ভুক্তভোগী শিশুটি নানাবাড়িতে থেকে সাগরের প্রতিষ্ঠিত কওমি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। শিশুটির বাবা তাদের সঙ্গে থাকেন না এবং মা জীবিকার প্রয়োজনে সিলেটে গৃহপরিচারিকার কাজ করেন। গত ১৮ এপ্রিল শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়লে এবং তার শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে তাকে ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরীক্ষায় ধরা পড়ে যে শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা। এই খবর শুনে শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় মামলা করেন।
এদিকে, যে চিকিৎসক শিশুটির অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন, তাকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। র্যাব-১৪-এর অধিনায়ক নয়মুল হাসান জানান, তারা বিষয়টি অবগত আছেন এবং ওই চিকিৎসকের নিরাপত্তার জন্য সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা নিয়ে ছড়িয়ে পড়া কথিত ডিএনএ রিপোর্টের তথ্য সঠিক নয় বলেও র্যাব নিশ্চিত করেছে।
/কহু