বরিশালের উজিরপুর উপজেলার গুপ্ত খাল পুনঃখনন না হওয়ায় পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে বোরো ধান আবাদে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বাণিজ্যিক সেচ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করছেন। এতে খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধান চাষ বন্ধ করে দিচ্ছেন অনেক কৃষক। তবে উপজেলা কৃষি অফিস বলছে, খাল পুনঃখননে সংশ্লিষ্ট দফতরে একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা বলেন, একসময় গুপ্ত খালের দুই দিক দিয়েই সন্ধ্যা নদীর পানি প্রবাহিত হতো। ওই পানির ওপর নির্ভর করে অন্তত ২০ হেক্টর জমিতে ধানসহ বিভিন্ন ফসল আবাদ করা হতো। কিন্তু দীর্ঘদিন খাল পুনঃখনন না হওয়া এবং দখলের কারণে খালটি এখন প্রায় মৃতপ্রায়।
কৃষকরা অভিযোগ করে বলেন, বর্ষা মৌসুম ছাড়া খালে তেমন পানি থাকে না। শুষ্ক মৌসুমে পুরো খাল শুকিয়ে যায়। সন্ধ্যা নদীর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় খালে আর স্বাভাবিকভাবে পানি প্রবেশ করতে পারে না। এর ফলে নদীর মোহনায় সেচ পাম্প বসিয়ে খালে পানি তুলে জমিতে সেচ দিতে হচ্ছে।
এতে বোরো ধান চাষের খরচ অনেক বেড়ে গেছে। কৃষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাণিজ্যিক সেচ ব্যবস্থায় ২০ শতক জমিতে সেচ দিতে পাম্প মালিককে তিন শতক জমির সমপরিমাণ ধান দিতে হয়। অতিরিক্ত খরচের কারণে অনেক কৃষক বোরো ধান আবাদ বন্ধ করে দিয়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কপিল বিশ্বাস বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে সন্ধ্যা নদীর পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় গুপ্ত খালে পানি প্রবেশ করতে পারে না। কৃষকদের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। খাল পুনঃখননের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি প্রকল্প জমা দেওয়া হয়েছে।’
/এসএকে