ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) তত্ত্বাবধানে একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পোড়াবাড়ি সড়ক থেকে অলহরী ব্রিজ হয়ে আমলীতলা বাজার পর্যন্ত প্রায় ৬০০ মিটার দৈর্ঘ্যের এই সড়কটিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কটির বেজ স্তরের কাজ প্রায় শেষের পথে। তবে অভিযোগ রয়েছে, এই স্তরে অত্যন্ত নিম্নমানের তথা তৃতীয় শ্রেণির ইটের খোয়া ও রাবিশ ব্যবহার করা হচ্ছে। নিম্নমানের সামগ্রীর ওপর কিছু ভালো খোয়া ছিটিয়ে দিয়ে তা রোলার দিয়ে পিষে দেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পের শুরু থেকেই সাব-বেজ ও বেজ স্তরে এমন অনিয়ম চলছে বলে স্থানীয়দের দাবি।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, প্রকৌশল দফতরের কিছু অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে ঠিকাদার এই অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। যখনই স্থানীয়রা প্রতিবাদ করেন, তখন সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ রেখে কিছু নিম্নমানের উপকরণ সরিয়ে নেওয়া হয়, কিন্তু কয়েকদিন পর আবারও একই কায়দায় কাজ শুরু করা হয়।
জানা গেছে, সাব-বেজ স্তরে নির্ধারিত অনুপাত না মেনে অতিরিক্ত বালু ও নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হয়েছে। স্থানীয়দের বাধার মুখে কিছু সামগ্রী অপসারণ করা হলেও কাজের গুণগত মানের কোনো পরিবর্তন হয়নি। ফলে সড়কটির স্থায়িত্ব নিয়ে গভীর সংশয় দেখা দিয়েছে।
নাদিরুজ্জামান লিটন বলেন, এটি উন্নয়নের নামে প্রকাশ্য লুটপাট। কর্মকর্তাদের সামনেই নিম্নমানের খোয়া ব্যবহার করা হচ্ছে, অথচ তারা নীরব ভূমিকা পালন করছেন। এবিএস কামাল আহমেদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবাদ করলেই বলা হয় কাজ ঠিক আছে। বাস্তবে কোনো নিয়মই মানা হচ্ছে না। এই রাস্তা এক মৌসুমও টিকবে না। কামরুল ইসলাম মন্তব্য করেন, এখানে যা হচ্ছে তা কেবল অনিয়ম নয়, রীতিমতো ‘পুকুর চুরি’। শুধু ঠিকাদার নয়, সংশ্লিষ্ট দফতরের লোকজনও এর সঙ্গে জড়িত।
এলজিইডি সূত্র জানায়, মঠবাড়ী ইউনিয়নের অলহরী ঘাটপাড় থেকে আমলীতলা বাজার পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮ লাখ ৮ হাজার ৩৩৯ টাকা। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া এই কাজটি ২০২৬ সালের মে মাসে শেষ করার কথা রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স সরকার এন্টারপ্রাইজ।
এ বিষয়ে ঠিকাদার আবুল হোসেন জানান, অভিযোগের প্রেক্ষিতে নিম্নমানের সামগ্রী সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উপ-সহকারী প্রকৌশলী শামসুল হুদা বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা নিম্নমানের সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দিয়েছি।
ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়েত হোসেন জানান, অনিয়মের ভিত্তিতে ঠিকাদারকে ইতোমধ্যে লিখিত চিঠি দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, ঠিকাদার নিম্নমানের সামগ্রী আনলে আমরা তা সরিয়ে নিচ্ছি। এতে ঠিকাদারেরই আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। নিম্নমানের কাজ করে বিল নেওয়ার কোনো সুযোগ এখানে নেই।
সময়ের আলো/জোই