একটি সেলাই মেশিন, একটি সনদপত্র আর সামান্য মূলধন- এটুকুই হয়ত বদলে দিতে পারে একজন নারীর জীবনের গল্প। সেই বিশ্বাস থেকেই গাইবান্ধার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কর্মীর হাত গত চার বছর ধরে নিরলসভাবে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের সেলাই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সংগঠনটির আয়োজনে, আত্মকর্মসংস্থান কর্মসূচি ও যৌতুক বিরোধী প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ সমাপ্তকারী নারীদের মধ্যে বিনামূল্যে সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। চার মাসের প্রশিক্ষণ, তারপর নিজের হাতে রোজগারের স্বপ্ন- এভাবেই গাইবান্ধায় ৪০ নারীর হাতে তুলে দেওয়া হলো সেলাই মেশিন।
প্রবাসীদের সংগঠন ফোরাম ৮৬-এর সহযোগিতায় পরিচালিত এই কর্মসূচিতে বিবাহযোগ্য ও স্বামী পরিত্যক্তা নারীদের চার মাসব্যাপী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বছরে দুটি ব্যাচে মোট ৪০ জন নারী এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষণ শেষে প্রত্যেককে দেওয়া হয় একটি সেলাই মেশিন, সনদপত্র এবং প্রাথমিক মূলধন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাইবান্ধা জেলা বিএনপির সভাপতি ও জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক। তিনি বলেন, কর্মীর হাতকে আরও শক্তিশালী করে আগামীদিনে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডকে আরও বেগবান করতে হবে। প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে স্বাস্থ্যসেবা, ক্রীড়া, হুইলচেয়ার ও শীতবস্ত্র বিতরণ, বন্যা ত্রাণসহ নানা কার্যক্রমে কর্মীর হাতের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি সংগঠনটির প্রতি সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জেলা সমাজসেবা অধিদফতরের উপপরিচালক মো. ইমাম হাসিম এবং গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সভাপতি অমিতাভ দাশ হিমুন। প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির আহ্বায়ক ও কর্মীর হাতের সহসভাপতি এটিএম ফরহাদ হোসেন বিজুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাবু, প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. ফজলুর করিম, সহসভাপতি রকিবুল হক চৌধুরী, যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর কবির বাদল, সদস্য জাহিদুল হক লিটন এবং প্রশিক্ষণার্থী লিজু আকতার ও সুরাইয়া আকতার সিনথিয়া।
উল্লেখ্য, ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত কর্মীর হাত দীর্ঘ চার দশকের সামাজিক কর্মকাণ্ডে জাতীয় পর্যায়ে পরিচিতি অর্জন করেছে। গত ১২ বছর ধরে চিকিৎসাসেবার পাশাপাশি যৌতুক বিরোধী কর্মসূচির আওতায় নারীদের আয়বর্ধক প্রশিক্ষণ দিয়ে আসছে সংগঠনটি।
সময়ের আলো/জোই