চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় নামি কোম্পানির আদলে ভেজাল ও নকল পানীয় উৎপাদনের দায়ে দুটি কারখানায় অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে পরিচালিত এই অভিযানে বিপুল পরিমাণ নকল পানীয় জব্দ ও ধ্বংস করার পাশাপাশি দুই প্রতিষ্ঠানকে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার 'আলিফ আইসক্রিম ফ্যাক্টরি' ও 'নাহিয়ান আইসবার' নামের দুটি প্রতিষ্ঠানে এই অভিযান চালানো হয়। সেখানে দেখা যায়, বাজারে প্রচলিত জনপ্রিয় বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পানীয়ের হুবহু রং, বোতল ও লেবেল ব্যবহার করে নকল ড্রিংকস তৈরি করা হচ্ছিল। প্রথম দেখায় এগুলোকে আসল ব্র্যান্ডের পণ্য থেকে আলাদা করা সাধারণ মানুষের জন্য প্রায় অসম্ভব।
অভিযানে উঠে আসে জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম হুমকিস্বরূপ কিছু তথ্য। পানীয়গুলো মিষ্টি করতে চিনির পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছিল ক্ষতিকর স্যাকারিন। সবচেয়ে ভয়াবহ বিষয় ছিল পানীয়ের রং। কারখানায় খাবারের অনুপযোগী এবং মূলত কাপড়ে ব্যবহারের জন্য ব্যবহৃত রাসায়নিক রং দিয়ে এসব পানীয় তৈরি করা হচ্ছিল।
অভিযান চলাকালে এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট খোন্দকার মাহমুদুল হাসান কারখানার ম্যানেজার ও কর্মচারীদের নিজেদের তৈরি ড্রিংকস পান করতে বলেন। কিন্তু তারা তা পান করতে অস্বীকৃতি জানান। এতে স্পষ্ট হয় যায় যে, পানীয়গুলো কতটা বিষাক্ত তা প্রস্তুতকারীরা আগে থেকেই জানতেন।
ইউএনও বলেন, কাপড়ের রং খাবারে ব্যবহার করার বিষয়টি দেখে আমি বিস্মিত ও হতবাক হয়েছি। বিশেষ করে শিশুরা এসব নকল ড্রিংকস পান করছে—এই বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। দুই প্রতিষ্ঠানকে এক লাখ টাকা করে মোট দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং কারখানায় মজুদ থাকা সব ভেজাল পণ্য ধ্বংস করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় এ ধরনের ভেজাল ও নকল খাদ্য উৎপাদনের বিরুদ্ধে তাদের কঠোর অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সময়ের আলো/জোই