বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগমাধ্যম কচ্ছপতলী ও ৪ নং নোয়াপতং ইউনিয়নের সংযোগ সড়কটি বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। অতিসম্প্রতি প্রলয়ংকরী পাহাড়ি ঢলে ৩ নং আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সম্মুখস্থ সড়কের একটি বড় অংশ ধসে যাওয়ায় দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত বিচ্ছিন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, হেডম্যান পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের মূল সড়কটির উল্লেখযোগ্য অংশ ধসে পার্শ্ববর্তী খাদে বিলীন হয়ে গেছে। সড়কটি বর্তমানে এতটাই সরু হয়ে পড়েছে যে, যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের হেঁটে চলাচলের জন্যও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছে ওই বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের ঠিক সামনেই এমন ভয়াবহ ভাঙন থাকায় যে কোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। ফলে অনেকেই সন্তানদের স্কুলে পাঠাতে দ্বিধাবোধ করছেন।
এই সড়কটি ব্যবহার করে নিয়মিত যাতায়াত করেন থলিপাড়া, খংক্ষ্যং পাড়া, মহিলা কারবারি পাড়া ও থুইসা পাড়াসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার শত শত মানুষ। সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন প্রায় হওয়ায় পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল স্থবির হয়ে পড়েছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি আনা-নেওয়া এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি সাধারণ মানুষের জন্য দুরূহ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আসন্ন বর্ষা মৌসুম নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বর্ষার ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে পাহাড়ের মাটির ক্ষয় আরও ত্বরান্বিত হবে এবং অবশিষ্ট সড়কটুকু সম্পূর্ণ ধসে পড়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। বর্তমানে জীর্ণ এই অংশটি দিয়ে ভারী যানবাহন চলাচল করলে যে-কোনো মুহূর্তে প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে।
স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানান, এই সড়কটি এই অঞ্চলের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ ও যানবাহন এই পথেই যাতায়াত করে। অথচ সড়কটির এমন বেহাল দশা দীর্ঘস্থায়ী হলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো সংস্কার উদ্যোগ পরিলক্ষিত হয়নি।
এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানানো হয়েছে, বর্ষার পূর্ণতা পাওয়ার আগেই জনস্বার্থে এই ভাঙনকবলিত অংশটি যেন স্থায়ী ও টেকসইভাবে সংস্কার করা হয়। অন্যথায় এই অঞ্চলের বিশাল জনগোষ্ঠী দীর্ঘমেয়াদি বিচ্ছিন্নতা ও দুর্ভোগের শিকার হবে।
সময়ের আলো/জোই