৭৭৫ কিলোমিটার খালে ফিরছে প্রাণ, সিলেটের কৃষিতে বড় পরিবর্তনের আভা

দিপু সিদ্দিকী, সিলেট

সারাদেশ

দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকটে পিছিয়ে থাকা সিলেটের কৃষিতে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ৩২৫ কিলোমিটার

2026-05-08T02:39:06+00:00
2026-05-08T02:39:06+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
৭৭৫ কিলোমিটার খালে ফিরছে প্রাণ, সিলেটের কৃষিতে বড় পরিবর্তনের আভা
দিপু সিদ্দিকী, সিলেট
প্রকাশ: শুক্রবার, ৮ মে, ২০২৬, ২:৩৯ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা ও সেচ সংকটে পিছিয়ে থাকা সিলেটের কৃষিতে বড় পরিবর্তনের আভাস মিলছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ৩২৫ কিলোমিটার এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ৪৫০ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের উদ্যোগ নিয়েছে। মোট ৭৭৫ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সেচ ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে বিএডিসি সিলেট অঞ্চলের প্রকল্প পরিচালক প্রণজিত কুমার দেব বলেন, ৩২৫ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের কাজ চলছে। এর মধ্যে ২০৯ কিলোমিটার নিষ্কাশন খাল এবং ১২৫ কিলোমিটার সেচ খাল। এই সেচ খালগুলো চালু হলে প্রায় ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমি নতুন করে সেচের আওতায় আসবে। একই সঙ্গে নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নে প্রায় ২২ হাজার ৫০০ হেক্টর এলাকায় জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে কমবে।

প্রকল্প পরিচালক প্রণজিত কুমার দেব আরও বলেন, খাল খননের পর খালের দুই পাড়ে রাস্তা তৈরি করা হবে। এতে কৃষকদের ফসল আনা-নেওয়া সহজ হবে, গবাদিপশুর চলাচলও বাড়বে। খালে পানি থাকায় নৌকাযোগে ফসল পরিবহন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি দেশীয় প্রজাতির মাছের উৎপাদনও বাড়বে। খালপাড়ের অতিরিক্ত প্রায় ৩ হাজার হেক্টর পতিত জমিও আবাদের আওতায় আসবে বলে আমরা আশা করছি।

এ প্রসঙ্গে জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে পানি উন্নয়ন বোর্ড, সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস বলেন, আমরা ৪৫০ কিলোমিটার খাল পুনর্খননের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হলে ধানের উৎপাদন বাড়বে, কৃষি ও মৎস্য খাতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলেও মন্তব্য করেন পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো), সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস।

এ বিষয়ে কথা হয় সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সঙ্গে। এ সময় তিনি বলেন, সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে এই উদ্যোগ কৃষকদের জন্য বড় সহায়ক হবে। তবে কাজের মান ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, খালগুলো সচল হলে পানির পর্যাপ্ততা নিশ্চিত হবে। এতে এক সময়ের অনাবাদি জমি আবার আবাদে ফিরবে এবং এক ফসলি জমি রূপ নেবে দুই ফসলি জমিতে। একই সঙ্গে খালের পাড়ের পতিত জমিতে মৌসুমি ফসলের চাষাবাদ বাড়বে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন গতি যোগ করবে।

সিলেটের কৃষকদের মাঝেও তৈরি হয়েছে আশাবাদ। সরেজমিন আলাপকালে গোয়াইনঘাটের কৃষক আব্দুল হান্নান বলেন, খালগুলো ঠিকভাবে খনন করা হলে বর্ষায় পানি নামবে, আবার শুকনো মৌসুমে সেচও পাওয়া যাবে। এতে আমাদের জমি আর পতিত থাকবে না। আরেক কৃষক রহিম উদ্দিন বলেন, পানি থাকলে আমরা বছরে দুই বার চাষ করতে পারব। উৎপাদন বাড়লে আয়ও বাড়বে।

সিলেট সদর উপজেলার কিষানি সালমা বেগম বলেন, খালের পাশে জমিতে সবজি চাষ করা যাবে। এতে সংসারে বাড়তি আয় হবে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত ও সুষ্ঠু বাস্তবায়নের মাধ্যমে এই উদ্যোগ সিলেটের কৃষিতে দীর্ঘদিনের সংকট দূর করে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে।


সময়ের আলো/জেডি 



  বিষয়:   খাল  সিলেট  কৃষি  সেচ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: