লেবাননের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকেরও বেশি মানুষ বর্তমানে জীবনধারণের জন্য মানবিক সহায়তার ওপর সরাসরি নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা।
শুক্রবার (৮ মে) বৈরুতে লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউনের সঙ্গে এক বৈঠকের পর ইইউ-র সংকট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রধান হাজা লাহবিব সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
গত দুই মাস ধরে চলা যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে দেশটিতে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত হামলার ফলে এই মানবিক সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হাজা লাহবিব বলেন, বর্তমানে লেবাননের ৩০ লাখেরও বেশি মানুষ বেঁচে থাকার জন্য ত্রাণের ওপর নির্ভর করছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ৫০ শতাংশের বেশি। গত ২ মার্চ লেবাননে আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ২৭ সদস্যের এই ইউরোপীয় জোট এখন পর্যন্ত ১০ কোটি ইউরো বা প্রায় ১১ কোটি ৭০ লাখ ডলার মূল্যের সহায়তা প্রদান করেছে।
মানবিক সাহায্য নিয়ে ইতোমধ্যে ছয়টি উড়োজাহাজ লেবাননে পৌঁছেছে এবং আগামী শনিবার সপ্তম ফ্লাইটটি অবতরণের কথা রয়েছে। চরম খাদ্য ও চিকিৎসাসংকটে থাকা সাধারণ মানুষের কাছে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়া ইইউ-র অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তিনি জানান।
লেবাননের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চের শুরু থেকে দেশটিতে ইসরায়েলি হামলায় ২ হাজার ৭০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধের ভয়াবহতায় বাস্তুচ্যুত হয়েছেন ১০ লাখেরও বেশি নাগরিক, যারা বর্তমানে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
লাহবিব তার বক্তব্যে লেবাননের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দ্রুত সমাধানের ওপর জোর দিয়েছেন, যাতে বাস্তুচ্যুত মানুষগুলো নিজ নিজ আবাসে ফিরে যেতে পারেন। বৈরুতে প্রেসিডেন্ট আউনের সঙ্গে আলোচনায় তিনি চলমান সংকট উত্তরণে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও জোরালো সমর্থনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
সূত্র: মিডল ইস্ট আই
সময়ের আলো/টিএইচ