সন্তানের ভরণপোষণের (চাইল্ড সাপোর্ট) বকেয়া পরিশোধ না করলে মার্কিন নাগরিকদের পাসপোর্ট বাতিল করা হবে বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার। একই সঙ্গে বকেয়া থাকা ব্যক্তিদের পাসপোর্ট নবায়ন বা নতুন পাসপোর্ট পাওয়ার সুযোগও সীমিত করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, যেসব নাগরিক সন্তানের ভরণপোষণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ বকেয়া রেখেছেন, তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষভাবে যাদের বকেয়া ২ হাজার ৫০০ ডলারের (প্রায় ১ হাজার ৮৪৪ ইউরো) বেশি, তারা এই নীতির আওতায় পড়বেন।
দপ্তরটি বলেছে, বকেয়া থাকা ব্যক্তিদের পাসপোর্ট বাতিল এড়াতে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইন অনুযায়ী, আদালতের নির্দেশে একজন অভিভাবক (যার কাছে সন্তান থাকে না) অন্য অভিভাবককে সন্তানের খরচ বাবদ নির্দিষ্ট অর্থ প্রদান করতে বাধ্য থাকেন। এই অর্থ সন্তানের খাবার, পোশাক, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার মতো মৌলিক চাহিদায় ব্যবহৃত হয়।
পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, তারা আইন প্রয়োগ জোরদার করতে এবং শিশুদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নিচ্ছে। তাদের মতে, এই সিদ্ধান্ত অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব পালনে সহায়তা করবে।
দপ্তরটি আরও জানায়, যাদের বকেয়া রয়েছে, তাদের পাসপোর্ট বাতিল এড়াতে সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যের সংস্থার সঙ্গে অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করতে হবে।
একবার পাসপোর্ট বাতিল হলে তা দিয়ে আর আন্তর্জাতিক ভ্রমণ করা যাবে না। পাশাপাশি বকেয়া পরিশোধ না করা পর্যন্ত নতুন পাসপোর্টও দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর।
দপ্তরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদ্যমান ফেডারেল আইনের আওতায় এই ব্যবস্থা শিশুদের অধিকার রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
সন্তানের ভরণপোষণের বকেয়ার কারণে পাসপোর্ট বাতিলের বিধান ১৯৯৬ সালের একটি ফেডারেল আইনে ছিল, তবে এতদিন এটি সীমিতভাবে প্রয়োগ করা হতো।
আগে সাধারণত পাসপোর্ট নবায়নের সময়ই এই ব্যবস্থা নেওয়া হতো। নতুন নীতিতে এখন সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে বকেয়া থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করবে এবং তাদের পাসপোর্ট বাতিল করবে। তবে এই নতুন নীতি কবে থেকে কার্যকর হবে তা স্পষ্টভাবে জানানো হয়নি। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, নীতি শুক্রবার থেকে কার্যকর হতে পারে।
এছাড়া বলা হয়েছে, যাদের পাসপোর্ট বাতিল হবে এবং যারা তখন বিদেশে অবস্থান করবেন, তাদের যুক্তরাষ্ট্রে ফিরতে দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে জরুরি ভ্রমণ নথি সংগ্রহ করতে হবে।
আরবিএন