ফরিদপুরের চরভদ্রাসনে অভাবের সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে লেবানন গিয়েছিলেন দিপালী (৩৪)। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের বলি হয়ে লেবাননে বোমা হামলায় আহত হওয়ার পর, গত ৮ এপ্রিল দিবাগত রাতে বৈরুতের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
শুক্রবার (৮ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে মৃত্যুর এক মাস পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) দিপালীর মরদেহ দেশে ফিরে আসে।
বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অ্যাম্বুলেন্সযোগে মরদেহ দোহার মৈনুট ঘাটে আনা হয়। সেখান থেকে ট্রলারযোগে চর শালেপুর মান্দার তলা ঘাটে পৌঁছালে দিপালীর মরদেহ দেহ ঘোড়ার গাড়িতে করে তার গ্রাম মুন্সীর চরে নেওয়া হয়। পরে ঈদগা মসজিদ মাঠে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
জানাজার আগে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) যায়েদ হোছাইন ও ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম মোবাইল ফোনে দিপালীর বাবার সঙ্গে কথা বলেন। জেলা প্রশাসক মাজহারুল ইসলাম শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে যে-কোনো প্রয়োজনে পাশে থাকার আশ্বাস জানান।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, দিপালী ২০১১ সালে প্রথমবার বিদেশে যান এবং কয়েক বছর পর দেশে ফিরে আসেন। তবে পরিবারের আর্থিক অনটন দূর করতে ২০২৪ সালে তিনি পুনরায় লেবাননে পাড়ি জমান। সেখানে তিনি একটি পরিবারে গৃহকর্মী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সাম্প্রতিক যুদ্ধের উত্তেজনায় নিরাপত্তাহীনতার কারণে গৃহকর্তার পরিবারের সঙ্গে বৈরুতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই আশ্রয়স্থলই তার জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়।
দিপালী উপজেলার পূর্ব চরশালেপুর গ্রামের বাসিন্দা সেক মুকার মেয়ে। দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন চতুর্থ। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি অবিবাহিত ছিলেন।
সময়ের আলো/জোই