ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর প্রভাবে ইরানের বিরুদ্ধে যে সামরিক অভিযান শুরু করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, সেই যুদ্ধ নিয়েই এখন তিনি নিজেই বিরক্ত হয়ে পড়েছেন। এমন তথ্য দিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের এক উপদেষ্টা জানিয়েছেন এই যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প এখন ধৈর্য হারাচ্ছেন এবং তিনি বিষয়টি নিয়ে বিরক্ত। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইলের সঙ্গে মিলিয়ে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। সেই সংঘাত এখন তৃতীয় মাসে গড়িয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসন কোনো বড় লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।
দ্য আটলান্টিক জানায়, ট্রাম্প শুরুতে ভেবেছিলেন ইরানের পরিস্থিতিও ভেনেজুয়েলার মতো সহজ হবে। কারণ, ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলায় সামরিক অভিযানে তিনি দ্রুত সাফল্য পান বলে ধারণা ছিল তার। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, সেই অভিযানে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার স্ত্রীকে আটক করে যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়া হয়েছিল যা ট্রাম্পকে আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
এই কারণে তিনি মনে করেছিলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির সরকারও দ্রুত পতন ঘটবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বরং যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে যায়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের মধ্যেও ইরান অন্তত আরও তিন থেকে চার মাস টিকে থাকতে পারবে। হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার কারণে যুক্তরাষ্ট্র এই অবরোধ আরোপ করে। এই পথ দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল পরিবহন হয়।
ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ এক উপদেষ্টা বলেন, ধৈর্য ট্রাম্পের শক্তি নয়, তিনি এখন এই যুদ্ধ নিয়ে বিরক্ত। আরও কয়েকজন ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি মনে করেন, ইরানের অনড় অবস্থান ট্রাম্পকে হতাশ করেছে। যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামও বেড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ থেকে এখন পর্যন্ত গ্যাসোলিনের দাম বেড়ে প্রতি গ্যালনে ৪.৫৫ ডলারে পৌঁছেছে। এতে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান দল রাজনৈতিক চাপে পড়েছে। দলের ভেতরে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যুদ্ধ চলতে থাকলে তারা কংগ্রেসের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প এখন বড় ধরনের নতুন যুদ্ধ শুরু করতে আগ্রহী নন। তবে গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আবারও হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটে। দ্য আটলান্টিক আরও জানায়, ট্রাম্প বারবার ইরানকে সময়সীমা দিয়ে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করলেও তেহরান তা গুরুত্ব দিচ্ছে না। কয়েক সপ্তাহ ধরে হুমকি দিলেও শেষ পর্যন্ত অনেক ক্ষেত্রেই তিনি পিছু হটেছেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমটির মতে, যুক্তরাষ্ট্র এখন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জামের ঘাটতি, এবং বড় আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বিগ্ন। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা চলতে থাকায় উপসাগরীয় মিত্ররাও ইরানের পাল্টা হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে আশঙ্কা করছে।
আরবিএন