দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বুলাকীপুর ইউনিয়নের কুলানন্দপুর গ্রামের করতোয়া নদীর তীর ঘেঁষে বছরের পর বছর ধরে চলে আসছে লক্ষ-কোটি টাকার জমজমাট জুয়ার আসর।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশ মাঝেমধ্যে অভিযান করলেও রহস্যজনক কারণে ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে জুয়া সিন্ডিকেটের মূল গডফাদাররা। ফলে পুলিশ-প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে বাড়ছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নদীর তীরবর্তী দুর্গম চর এলাকায় তাঁবু টাঙিয়ে প্রতিদিন দুপুরের পর থেকেই বসে জুয়ার আসর। দিনাজপুর, রংপুর, গাইবান্ধা, বগুড়া ছাড়াও আশপাশের কয়েকটি জেলা থেকে সিএনজি ও মোটরসাইকেলে করে সেখানে জড়ো হন পেশাদার জুয়াড়িরা।
অভিযোগ রয়েছে, জুয়ার আসরকে ঘিরে গড়ে উঠেছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। তাদের নিয়োগ করা লাইনম্যানরা দূর থেকেই প্রশাসনের গতিবিধি নজরদারি করে। ফলে পুলিশ অভিযানে গেলেও আগেভাগেই সটকে পড়ে মূল হোতারা।
একই সঙ্গে ওই এলাকায় নিয়মিত নেশার আসরও বসে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে তরুণ সমাজ বিপথে যাওয়ার পাশাপাশি চুরি-ছিনতাইও বাড়ছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘জুয়ার বিরুদ্ধে কথা বললেই সিন্ডিকেটের লোকজন ভয়ভীতি দেখায়। অথচ প্রশাসনের সামনে তারা প্রকাশ্যেই সব চালিয়ে যাচ্ছে।’
এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জুয়ার আসরটি তিন থানার সীমান্তবর্তী দুর্গম চর এলাকায় হওয়ায় অভিযানে গেলে জুয়াড়িরা সীমানা জটিলতার সুযোগ নেয়। পুলিশ গেলে অন্য থানার এলাকায় পালিয়ে যায়, পরে আবার সক্রিয় হয়।’
তিনি আরও বলেন, ‘পীরগঞ্জ ও ঘোড়াঘাট থানার যৌথ অভিযান পরিচালনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। স্থানীয়দের তথ্য সহায়তা পেলে জুয়ার আসর স্থায়ীভাবে বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হবে।’
জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজ রুবানা তানজিম বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত হয়েছি। সংশ্লিষ্ট তিন উপজেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও থানা পুলিশের সঙ্গে আলোচনা করে খুব দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রয়োজনে এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সঙ্গেও কথা বলে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’
/মহু