ইরান আন্তর্জাতিক জলসীমায় থাকা তেল চীনের কাছে বিক্রির জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছে। তেহরানভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘ডিপ্লোহাউস’-এর পরিচালক হামিদ রেজা গুলামজাদেহ জানিয়েছেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সম্প্রতি বিভিন্ন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্যেষ্ঠ কূটনীতিকদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক ও যোগাযোগ করেছেন। এসব আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে ইরানের অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলের কাছে তুলে ধরা।
গুলামজাদেহ বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য বেইজিং সফরের মাত্র এক সপ্তাহ আগে আরাঘচি চীন সফর করেন। এই সফরকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার মুখে চীন বর্তমানে ইরানের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অংশীদার। বিশেষ করে তেল রফতানি খাতে চীনের সহযোগিতা ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, আরাঘচি অবশ্যই চীনের সহযোগিতা চাইছেন। যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল রফতানি দীর্ঘদিন ধরেই চাপে রয়েছে। শুধু ব্যাংকিং ও বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞাই নয়, সমুদ্রপথেও বিভিন্ন ধরনের কড়াকড়ি ও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। ফলে ইরানের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে স্বাভাবিকভাবে তেল বিক্রি করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এই পরিস্থিতিতে ইরান এমন তেলের চালান বিক্রির চেষ্টা করছে, যেগুলো এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক জলসীমায় অবস্থান করছে। অর্থাৎ, কিছু তেলবাহী জাহাজ সমুদ্রে ভাসমান অবস্থায় রয়েছে এবং সেগুলোর তেল চীনের কাছে বিক্রি বা সরবরাহ করার বিষয়ে দুই দেশ সমন্বয় করছে। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার চাপ কিছুটা কমাতে এবং বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়াতে চাইছে।
গুলামজাদেহ আরও জানান, আরাঘচি তার আলোচনায় হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা পরিস্থিতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলেছেন। হরমুজ প্রণালী বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ, যার মাধ্যমে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়। এ অঞ্চলে কোনো ধরনের উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, তেহরান আগে থেকেই হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য কিছু বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তাব দিয়ে আসছে। সাম্প্রতিক আলোচনায়ও সেই বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে। ইরান চাইছে, এ অঞ্চলে নিরাপত্তা বজায় থাকুক এবং একই সঙ্গে তাদের বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলেও যেন বাধা সৃষ্টি না হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে ইরান একদিকে অর্থনৈতিক চাপ মোকাবেলা করতে চাইছে, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক অঙ্গনেও নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে।
/ইউএমএইচ