বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর ধারাবাহিক প্রচেষ্টা, সমন্বিত উদ্যোগ ও মানবিক তৎপরতায় মিয়ানমার থেকে দেশে ফিরেছেন আরাকান আর্মির হাতে আটক ১৪ জন বাংলাদেশি জেলে।
জানা গেছে, ২০২৫-২০২৬ সালের বিভিন্ন সময়ে বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় মাছ ধরতে গিয়ে কয়েকজন বাংলাদেশি জেলে অনিচ্ছাকৃতভাবে বাংলাদেশের জলসীমা অতিক্রম করে মিয়ানমারের জলসীমায় প্রবেশ করেন। এ সময় তাদের আটক করে আরাকান আর্মি। পরে আটক জেলেদের মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সংগঠনটির নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তারা সেখানে বিভিন্ন মেয়াদে আটক ছিলেন।
এ প্রেক্ষিতে শনিবার (৯ মে) বিজিবির একটি প্রতিনিধিদল নাফ নদীর শূন্যরেখায় আরাকান আর্মির কাছ থেকে ১৪ জন জেলেকে গ্রহণ করে। পরে তাদের টেকনাফ জেটিঘাটে নিয়ে আসা হয়।
বর্তমানে ফেরত আনা জেলেদের পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করার কাজও অব্যাহত রয়েছে।
এ ঘটনায় জেলেদের পরিবার-পরিজনের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে আটক জেলেদের প্রত্যাবর্তনকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া এখনও আটক থাকা অন্য জেলেদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে বিজিবির প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এ বিষয়ে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া বলেন, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দেশের মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সবসময় দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে আসছে। মানবিক সংকট মোকাবিলায় বিজিবির পেশাদারিত্ব, আন্তরিকতা ও কার্যকর সমন্বয়ের ফলেই আটক জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
/এসএকে