চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদ বোস্তামি থানাধীন রৌফাবাদ এলাকায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত ১১ বছরের শিশু রেশমির শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। বর্তমানে সে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ (মাল্টি অর্গান) অকার্যকর হয়ে পড়েছে।
শনিবার (৯ মে) চমেক হাসপাতালের আইসিইউ প্রধান অধ্যাপক বাকি বিল্লাহ সাংবাদিকদের জানান, শিশুটির অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন।
তিনি বলেন, গুলিটি রেশমির বাম চোখ দিয়ে ঢুকে মাথার ভেতরে গভীরে আটকে আছে। তার মাল্টি অর্গান বিকল হওয়ার লক্ষণ দেখা দিয়েছে। বর্তমান অবস্থায় অস্ত্রোপচার করা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় মেডিকেল বোর্ড এখনই গুলি বের করার সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি। তাকে সর্বোচ্চ নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাত ১০টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামি থানার রৌফাবাদ শহিদ মিনার গলি এলাকায় মাস্ক পরা একদল দুর্বৃত্ত হঠাৎ গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে রাজু নামে এক যুবক নিহত হন। ওই সময় বাসা থেকে পান কেনার জন্য দোকানে যাওয়ার পথে রেশমি গুলিবর্ষণের মুখে পড়ে। একটি গুলি তার বাম চোখে বিঁধে মগজের গভীরে চলে যায়।
রেশমি স্থানীয় ‘ব্যারিস্টার মিল্কী মেমোরিয়াল স্কুলে’ চতুর্থ শ্রেণিতে পড়ে। পরিবারের তিন ভাই-বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। রেশমির বড় ভাই ফয়সাল আহমেদ কান্নজড়িত কণ্ঠে বলেন, চিকিৎসকরা কোনো আশার বাণী শোনাতে পারছেন না। তারা বলছেন যে-কোনো সময় যে-কোনো কিছু হয়ে যেতে পারে। আমরা শুধু অলৌকিক কিছুর অপেক্ষায় আছি।
শুক্রবার শিশুটিকে হাসপাতালে দেখতে যান চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। তিনি রেশমির চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিশুটির সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনায় জড়িত মাস্কধারী সন্ত্রাসীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বায়েজিদ বোস্তামি থানা পুলিশ। এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে এবং স্থানীয়রা দ্রুত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
সময়ের আলো/জোই