হরমুজ নয়, কাস্পিয়ান দিয়ে ইরানে সামরিক সহায়তা পাঠাচ্ছে রাশিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালির অবরোধ এবং আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়িয়ে কাস্পিয়ান সাগরপথ ব্যবহার করে ইরানে ড্রোনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পাঠাচ্ছে রাশিয়া। মার্কিন গোয়েন্দা ও

2026-05-09T22:13:49+00:00
2026-05-09T22:13:49+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬,
১৮ আষাঢ় ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
হরমুজ নয়, কাস্পিয়ান দিয়ে ইরানে সামরিক সহায়তা পাঠাচ্ছে রাশিয়া
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ১০:১৩ পিএম 
ইরান ও রাশিয়ার মধ্যবর্তী কাস্পিয়ান সাগর।
হরমুজ প্রণালির অবরোধ এবং আন্তর্জাতিক নজরদারি এড়িয়ে কাস্পিয়ান সাগরপথ ব্যবহার করে ইরানে ড্রোনের প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ পাঠাচ্ছে রাশিয়া। মার্কিন গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রভাবশালী মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাস্পিয়ান সাগর বর্তমানে রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে গোপন ও প্রকাশ্য বাণিজ্যের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত রুটে পরিণত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত সামরিক সক্ষমতা দ্রুত পুনর্গঠনে এই রুটটি তেহরানকে ব্যাপকভাবে সহায়তা করছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের দাবি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাশিয়া থেকে ড্রোনের যন্ত্রাংশ সরবরাহ যদি বর্তমান গতিতে অব্যাহত থাকে, তবে ইরান খুব দ্রুতই তাদের ড্রোন ভাণ্ডার আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে সক্ষম হবে। 

সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা অনুযায়ী, সাম্প্রতিক যুদ্ধে ইরানের মজুত থাকা ড্রোনের প্রায় ৬০ শতাংশ ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে তেহরান এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, যুদ্ধে তারা যে পরিমাণ ড্রোন ব্যবহার করেছেন তা তাদের মোট মজুতের তুলনায় অত্যন্ত ‘নগণ্য’। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরান এখনো টানা তিন থেকে চার মাস বিরতিহীনভাবে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার পূর্ণ সক্ষমতা রাখে।

রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে সরাসরি কোনো স্থলসীমান্ত না থাকলেও কাস্পিয়ান সাগর এই দুই দেশকে জলপথে সংযুক্ত করেছে। এই জলপথ ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তুলনামূলক নিরাপদে সামরিক সরঞ্জাম ও যন্ত্রাংশ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। 

নিউ ইয়র্ক টাইমসের তথ্যমতে, যেসব পণ্য আগে সাধারণত হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবহন করা হতো, সেগুলোর একটি বড় অংশ এখন কাস্পিয়ান সাগর হয়ে ইরানে পৌঁছাচ্ছে। এর মধ্যে সামরিক সরঞ্জামের পাশাপাশি শস্য, পশুখাদ্য এবং সূর্যমুখী তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যও রয়েছে।

প্যারিসের গবেষক অধ্যাপক নিকোল গ্রায়েভস্কি এই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে বলেন, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তরের জন্য কাস্পিয়ান সাগর বর্তমানে একটি আদর্শ স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিংক ট্যাংক হাডসন ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ ফেলো লুক কফি মনে করেন, মার্কিন নীতিনির্ধারকদের কাছে কাস্পিয়ান অঞ্চলটি একটি ‘ভূরাজনৈতিক ব্ল্যাক হোল’ বা অন্ধকার গহ্বরের মতো, যার গুরুত্ব তারা সেভাবে অনুধাবন করতে পারেননি। ইরান ও রাশিয়া মূলত মার্কিনিদের এই উদাসীনতা বা কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গির সুযোগ নিয়ে তাদের সামরিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস

সময়ের আলো/টিএইচ


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: