শুদ্ধভাবে হজ পালনের ধারাবাহিক নিয়ম ও ফজিলত

সময়ের আলো ডেস্ক

ইসলাম

ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম হলো হজ। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করা ফরজ। এটি কেবল একটি

2026-05-10T12:58:26+00:00
2026-05-10T12:58:26+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
ইসলাম
শুদ্ধভাবে হজ পালনের ধারাবাহিক নিয়ম ও ফজিলত
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১০ মে, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম 
সংগৃহীত ছবি
ইসলাম ধর্মের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম হলো হজ। সামর্থ্যবান প্রত্যেক মুসলমানের ওপর জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করা ফরজ। এটি কেবল একটি শারীরিক বা আর্থিক ইবাদত নয়, বরং মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভের এক আত্মিক সফর। হজের প্রতিটি ধাপ নির্দিষ্ট নিয়ম ও তাৎপর্যে ঘেরা। তাই হজ কবুল হওয়ার জন্য এর সঠিক নিয়মাবলি ও নিষিদ্ধ বিষয়গুলো সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি।

ইহরাম ও প্রাথমিক প্রস্তুতি
হজের প্রধান শর্ত হলো ইহরাম। বাংলাদেশ থেকে যারা হজে যান, তারা সাধারণত হজে তামাত্তু (প্রথমে ওমরাহ, পরে হজ) পালন করেন। ঢাকা থেকে বিমানে ওঠার আগেই সেলাইবিহীন দুটি সাদা কাপড় পরে ইহরামের নিয়ত ও তালবিয়া পাঠ করা উত্তম। মক্কায় পৌঁছে কাবা শরিফ সাতবার প্রদক্ষিণ (তাওয়াফ) এবং সাফা-মারওয়া পাহাড়ে সাতবার দৌড়ানোর (সাঈ) পর মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করার মাধ্যমে ওমরাহ সম্পন্ন করে ইহরাম মুক্ত হতে হয়।

হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা
৮ জিলহজ: এদিন পুনরায় হজের ইহরাম বেঁধে মিনার উদ্দেশে রওনা হতে হয়। মিনায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও রাত যাপন করা সুন্নত।

৯ জিলহজ (আরাফাহ দিবস): এটি হজের শ্রেষ্ঠ ফরজ। এদিন আরাফার ময়দানে অবস্থান করে জোহর ও আসর একত্রে আদায় করতে হয় এবং সূর্যাস্ত পর্যন্ত দোয়ায় মশগুল থাকতে হয়। সূর্যাস্তের পর মাগরিব না পড়েই মুজদালিফার দিকে রওনা হতে হয়।

মুজদালিফা ও শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ
মুজদালিফায় গিয়ে মাগরিব ও এশা একত্রে পড়তে হয় এবং খোলা আকাশের নিচে রাত যাপন করতে হয়। সেখান থেকে শয়তানকে মারার জন্য অন্তত ৪৯টি কঙ্কর সংগ্রহ করতে হয়। ১০ জিলহজ সকালে মিনায় ফিরে বড় শয়তানকে সাতটি পাথর মারার পর কোরবানি দিয়ে মাথা মুণ্ডাতে হয়। এর মাধ্যমে হাজিরা ‘হালাল’ হন এবং সেলাই করা পোশাক পরতে পারেন।

১০ থেকে ১২ জিলহজের মধ্যে কাবা শরিফে গিয়ে ‘তাওয়াফে জিয়ারত’ সম্পন্ন করা ফরজ। এরপর ১১ ও ১২ জিলহজ মিনায় শয়তানের তিনটি স্তম্ভে পাথর নিক্ষেপ করতে হয়। সব কাজ শেষে নিজ দেশে ফেরার আগে কাবা শরিফে যে শেষ তাওয়াফ করা হয়, তাকে ‘বিদায়ী তাওয়াফ’ বলে। এর মাধ্যমেই হজের পুণ্যময় সফর শেষ হয়।

ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধি ব্যবহার, নখ বা চুল কাটা, সেলাই করা পোশাক পরা (পুরুষদের জন্য) এবং ঝগড়া-বিবাদ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। বিশেষ করে তাওয়াফে জিয়ারতের আগে স্ত্রী সহবাস কঠোরভাবে বারণ করা হয়েছে। হজের প্রতিটি রুকন অত্যন্ত ধৈর্য ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করাই মুমিনের সার্থকতা।

/কহু



  বিষয়:   হজ  হজযাত্রী  বাংলাদেশ 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: