ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য বিতর্কিত মৃত্যুদণ্ড আইন পাসের জোর তৎপরতা চালানোয় ইসরায়েলি কট্টরপন্থী জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন ‘রেড রিবনস ক্যাম্পেইন’। ফিলিস্তিনিদের হত্যার উদ্দেশ্যে আইনি প্রক্রিয়াকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করায় সংগঠনটি এই মন্ত্রীকে ‘শতাব্দীর জল্লাদ’ (হ্যাংম্যান অব দ্য সেঞ্চুরি) বলে অভিহিত করেছে।
সংগঠনটি এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, এই নতুন আইনের ফলে ইসরায়েলি কারাগারে বেআইনিভাবে আটকে থাকা হাজার হাজার ফিলিস্তিনির জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। বর্তমানে অন্তত ৯ হাজার ১০০ ফিলিস্তিনি ইসরায়েলি ডিটেনশনে রয়েছেন। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫৩২ জনকে কোনো অভিযোগ বা বিচার ছাড়াই ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ডিটেনশন’ বা প্রশাসনিক আটকে রাখা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন।
চলতি মাসের শুরুতে নিজের ৫০তম জন্মদিন পালনের সময় বেন গভির একটি কেক কাটেন, যা ছিল ফাঁসির দড়ির আদলে সাজানো। এর মাধ্যমে তিনি মূলত ফিলিস্তিনিদের জন্য সদ্য পাস হওয়া মৃত্যুদণ্ড আইনের প্রতি ইঙ্গিত করেন। শুধু তাই নয়, গত ৪ মে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে একটি উস্কানিমূলক ভিডিও পোস্ট করেন তিনি। সেখানে এআই-র মাধ্যমে তৈরি বিভিন্ন ফাঁসির মঞ্চ ও দড়ির ছবি ব্যবহার করে তিনি প্রকাশ্যেই বলেন যে, তিনি ‘ফাঁসির দড়ির স্বপ্ন’ দেখেন।
মানবাধিকার সংগঠনটির তথ্যমতে, বন্দিদের মধ্যে ৩৪২ জন শিশু এবং ৮৪ জন নারী রয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরায়েলি অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে গণগ্রেপ্তার ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর আগে বন্দির সংখ্যা ছিল প্রায় ৫ হাজার ২৫০ জন। রেড রিবনস ক্যাম্পেইন মনে করে, এই মৃত্যুদণ্ড আইন কেবল বর্ণবাদ এবং বৈষম্যমূলক বিচার ব্যবস্থাকে আরও স্থায়ী করবে।
উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে ৬২-৪৮ ভোটে ফিলিস্তিনি বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার সংক্রান্ত বিলটি দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাঠে অনুমোদিত হয়। বেন গভির দীর্ঘ সময় ধরে এই কঠোর ও বিতর্কিত আইনটি পাসের জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। আন্তর্জাতিক মহল ইসরায়েলের এই পদক্ষেপকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন এবং মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা হিসেবে দেখছে।
/কহু