চান্দিনায় ধান কাটার শ্রমিক সংকট, বিপাকে চাষীরা

চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি

সারাদেশ

চান্দিনা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বোরো মৌসুমে ধান পেকে গেলেও তীব্র শ্রমিক সংকটে সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে জমিতে

2026-05-10T13:15:45+00:00
2026-05-10T13:15:45+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
চান্দিনায় ধান কাটার শ্রমিক সংকট, বিপাকে চাষীরা
চান্দিনা (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ১০ মে, ২০২৬, ১:১৫ পিএম 
মাইজখার গ্রামের কৃষক মোস্তফা কামাল ও তার সহযোগী ধান কাটছেন। ছবি : সময়ের আলো
চান্দিনা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে বোরো মৌসুমে ধান পেকে গেলেও তীব্র শ্রমিক সংকটে সময়মতো ধান কাটতে পারছেন না কৃষকরা। ফলে জমিতে ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন চাষীরা।

কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আগে যেখানে দিনে ৫০০–৭০০ টাকায় একজন শ্রমিক কাজ করতেন, বর্তমানে সেখানে ১০০০–১২০০ টাকা গুনতে হচ্ছে। মহিলা শ্রমিকদের ক্ষেত্রেও প্রতিদিন ৭০০–৯০০ টাকা মজুরি দিতে হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে পর্যাপ্ত শ্রমিক না থাকায় এবার বাইরের শ্রমিকদের সাড়াও কম। এর মধ্যে সম্প্রতি উপজেলার সুহিলপুর ইউনিয়নের অলিপুর গ্রামে ভাড়াটে শ্রমিকের হাতে জমির মালিকের স্ত্রীর প্রাণহানির ঘটনার পর বাহিরের শ্রমিক দিয়ে কাজ করাতে কৃষকদের অনীহাও দেখা দিয়েছে।

উপজেলার এতবারপুর, মাইজখার, বাড়েরা ও মহিচাইল ইউনিয়নের কৃষকরা জানান, গেল কয়েকদিনের ঝড়-তুফানের কারণে একসঙ্গে সবার ধান কাটার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। স্বাভাবিক সময়েও এ মৌসুমে কিছুটা শ্রমিক সংকট থাকে, তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এবার তা আরও তীব্র হয়েছে।


মাইজখার গ্রামের কৃষক মোস্তফা কামাল বলেন, শ্রমিক না পেয়ে আমার ৪২ শতক জমির ধান নিজেই কেটে এনেছি। একজন শ্রমিক ৮০০–১০০০ টাকা নিচ্ছে, যা এই মুহূর্তে বহন করা খুব কষ্টকর।

পানিপাড়া গ্রামের কৃষক জিয়াউর রহমান বলেন, যেখানে এক মণ ধানের দাম ১০০০–১১০০ টাকা, সেখানে একজন শ্রমিকের মজুরি ১০০০–১২০০ টাকা। সবার ধান একসঙ্গে কাটার প্রয়োজন হওয়ায় এ সংকট। যেখানে তিনজন শ্রমিক দরকার, সেখানে একজন নিয়ে নিজেরা পরিশ্রম করে ধান কেটে আনছি। নইলে মাঠেই ধান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা।

তিতপুর গ্রামের কৃষক ইমরান হোসেন বলেন, গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ এখন নিজেরাই কৃষিকাজে যুক্ত। ঝড়ের কারণে সবার ধান একসঙ্গে পেকে যাওয়ায় শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে চান্দিনা উপজেলা কৃষি অফিস–এর কৃষি কর্মকর্তা মুহাম্মদ মোরশেদ আলম জানান, এ বছর চান্দিনায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ১১ হাজার ১৬৮ হেক্টর জমি, লক্ষ্যমাত্রার চাইতে বেশি জমি আবাদ হয়েছে। আর চান্দিনা উপজেলার জন্য ২টি ধান কাটার হারভেস্টার মেশিন বরাদ্দ হয়েছে। তবে এগুলো এখনো এসে পৌঁছায়নি, আশা করছি এই সংকটের দ্রুত সমাধান হবে।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   চান্দিনায় ধান কাটার শ্রমিক সংকট  বিপাকে চাষীরা 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: