‘১৬৮ শিশুহত্যা’র কথা স্মরণ করিয়ে মা হওয়া লেভিটকে ইরানের অভিনন্দন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরান হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটকে তার দ্বিতীয় সন্তানের জন্মে অভিনন্দন জানিয়েছে, তবে একইসঙ্গে মিনাব স্কুলে প্রাণঘাতী হামলার প্রসঙ্গ

2026-05-10T13:41:17+00:00
2026-05-10T18:03:19+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
আন্তর্জাতিক
‘১৬৮ শিশুহত্যা’র কথা স্মরণ করিয়ে মা হওয়া লেভিটকে ইরানের অভিনন্দন
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ১০ মে, ২০২৬, ১:৪১ পিএম  আপডেট: ১০.০৫.২০২৬ ৬:০৩ পিএম
ক্যারোলিন লেভিট। ছবি : এনডিটিভি
ইরান হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিটকে তার দ্বিতীয় সন্তানের জন্মে অভিনন্দন জানিয়েছে, তবে একইসঙ্গে মিনাব স্কুলে প্রাণঘাতী হামলার প্রসঙ্গ তুলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি ও মানবাধিকার অবস্থান নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছে। লেভিট সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ঘোষণা দেন যে, তার কন্যাসন্তান ভিভিয়ানা—ডাকনাম “ভিভি” গত ১ মে জন্মগ্রহণ করেছে। তিনি একটি পারিবারিক ছবি শেয়ার করে জানান, মা ও শিশু দুজনেই সুস্থ আছেন এবং পরিবার নতুন সদস্যকে ঘিরে আনন্দে সময় কাটাচ্ছে।

এই ব্যক্তিগত আনন্দের ঘোষণার কয়েকদিন পরই ইরান এক অভিনব রাজনৈতিক টুইস্ট যোগ করে। তারা মিনাব শহরের একটি প্রাথমিক স্কুলে ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার কথা উল্লেখ করে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলায় ১৬৮জন শিশু নিহত হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। ইরানের দাবি অনুযায়ী, ওই ঘটনায় ১৬৮ জন শিশু নিহত হয়। ইরানের আর্মেনিয়ায় অবস্থিত দূতাবাস এক্সে এক পোস্টে লিখে জানায়, নিহত শিশুরাও ক্যারোলিন লেভিটের সন্তানের মতোই নিষ্পাপ ছিল এবং যুদ্ধ ও হামলার সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই বাস্তবতা ভাবা উচিত। 


এনডিটিভির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, স্থানীয় ও রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম আইআরআইবি-এর তথ্য অনুযায়ী, মিনাব স্কুলে হামলায় ৭৩ জন ছেলে ও ৪৭ জন মেয়ে শিশু নিহত হয়। পাশাপাশি ২৬ জন শিক্ষক, ৭ জন অভিভাবক, একজন স্কুল বাসচালক এবং পাশের ক্লিনিকের একজন স্বাস্থ্যকর্মীও প্রাণ হারান। আহত হন আরও অনেকে। 


এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক রাজনীতির দৃশ্যপট আরও জটিল হয়ে ওঠে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দাবি করা হয় যে তারা বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্য করছে না এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি কারোলিন লেভিট আগেই বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বেসামরিক প্রাণহানি এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে, তবে তদন্তের ফলাফল না আসা পর্যন্ত বিস্তারিত মন্তব্য সম্ভব নয়। 

অন্যদিকে, একটি প্রাথমিক সামরিক তদন্তে ইঙ্গিত দেওয়া হয় যে ভুল লক্ষ্য নির্ধারণের কারণে একটি মার্কিন টোমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র স্কুলটির কাছে আঘাত হানে, যা প্রাণহানির কারণ হতে পারে। এই তথ্য পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়।

এদিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রথমে ইরানকে দায়ী করার ইঙ্গিত দিলেও পরে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন এবং তদন্ত রিপোর্ট সম্পর্কে তার কাছে পরিষ্কার তথ্য নেই।

একদিকে কারোলিন লেভিটের পারিবারিক আনন্দ এবং অন্যদিকে মিনাব স্কুলে ভয়াবহ প্রাণহানির স্মৃতি— এই দুই বিপরীত বাস্তবতা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সুর তুলেছে। ইরান এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতি ও মানবিক অবস্থানের বিরুদ্ধে আরও জোরালো রাজনৈতিক বার্তা দিয়েছে, যা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও তীব্র করে তুলেছে। 


/ইউএমএইচ
 



  বিষয়:   ইরান  মিনাব স্কুল  হামলা  ক্যারোলিন লেভিট 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: