রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবিপ্রবি) সম্প্রতি একটি ছাত্র সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন ও বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে সৃষ্ট পরিস্থিতিকে ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ দাবি করে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান।
রোববার (১০ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন-১-এর সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত এই সংবাদ সম্মেলনে উপাচার্য লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন এবং সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।
উপাচার্য বলেন, জনগণের করের টাকায় পরিচালিত একটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা যখন-তখন তালা ঝুলিয়ে দেবে, এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয় হলো জ্ঞান সৃষ্টি ও বিতরণের পবিত্র স্থান। এখানে মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকলেও, অরাজকতা সৃষ্টি করে গোষ্ঠীস্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়কে অশান্ত করা কাম্য নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, গত ৫ মে তার অনুপস্থিতিতে উপাচার্যের কার্যালয়ে তালা দেওয়ার মতো ‘অছাত্র সুলভ’ কাজ করা হয়েছে একটি রাজনৈতিক দলের ব্যানারে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত এখনো বহাল। তিনি একে একটি দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে অভিহিত করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে উপাচার্য বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে ‘আওয়ামী পুনর্বাসনের’ যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা অত্যন্ত দুঃখজনক ও ভিত্তিহীন। আমার মেয়াদকালেই পূর্ববর্তী সরকারের ছাত্রসংগঠনের প্রায় ১০ জন শিক্ষার্থীর ছাত্রত্ব বাতিল করা হয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের অপরাধে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি প্রদান করা হয়েছে।
দুর্নীতির অভিযোগে প্রকল্প পরিচালক আব্দুল গফুরকে অব্যাহতি দিয়ে একটি আপৎকালীন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটিতে ড. নিখিল চাকমাকে রাখা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে উপাচার্য বলেন, তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রশাসক হিসেবে কাজ করেছেন এবং দীর্ঘকাল ধরে একটি বিভাগের সভাপতি ও গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের দায়িত্বে আছেন। তার বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নিয়োগ কোনো একক ব্যক্তির সিদ্ধান্তে হয় না; বরং সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই সম্পন্ন হয়। আমি যোগদানের আগে শিক্ষক সংখ্যা ছিল মাত্র ১৯-২০ জন, বর্তমানে ১০ জন বিদেশি পিএইচডিধারীসহ ২৯ জন নতুন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। সেশনজট শূন্যে নামিয়ে আনার কাজও চলমান।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অডিট আপত্তিকে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অডিট আপত্তির সঙ্গে দুর্নীতির সরাসরি সম্পর্ক নেই। বড় বড় বিশ্ববিদ্যালয়ে হাজারও এমন পর্যবেক্ষণ থাকে যা সময়ের সঙ্গে নিষ্পত্তি হয়। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে ইউজিসিকে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
গত এক বছরের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরে উপাচার্য জানান, এক দশকে যা হয়নি তা এখন বাস্তবায়িত হচ্ছে। একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, হলের ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ, নতুন বাস ক্রয়, ক্যান্টিন ও গেস্ট হাউস চালুসহ কানেক্টিং ব্রিজ ও রিসার্চ সেন্টার স্থাপনের মতো অসংখ্য কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে উপাচার্য সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন, একজন নির্দিষ্ট কর্মকর্তার বহিষ্কার নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের অতি-আগ্রহ এবং প্রশাসনের ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনতে সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ লেখনীর সহযোগিতা কামনা করেন।
সময়ের আলো/জোই