সিট নিয়ে জানতে চাওয়ায় সাংবাদিকের উপর চটলেন ইবি শিবির কর্মী

ইবি প্রতিনিধি

শিক্ষা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহিদ জিয়াউর রহমান হলে সিট বরাদ্দ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে সময়ের আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন

2026-05-11T11:28:22+00:00
2026-05-11T11:29:41+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
শিক্ষা
সিট নিয়ে জানতে চাওয়ায় সাংবাদিকের উপর চটলেন ইবি শিবির কর্মী
ইবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ১১ মে, ২০২৬, ১১:২৮ এএম  আপডেট: ১১.০৫.২০২৬ ১১:২৯ এএম
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রশিবিরের কর্মী আসিফ আল মেহেদী। ছবি : সময়ের আলো
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শহিদ জিয়াউর রহমান হলে সিট বরাদ্দ সংক্রান্ত বিষয়ে জানতে চাইলে সময়ের আলোর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন শাখা ছাত্রশিবিরের কর্মী আসিফ আল মেহেদী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী এবং শাখা ছাত্রশিবিরের সদস্য বলে জানা গেছে।

রোববার (১০ মে) দুপুরে ফোনালাপে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদকের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন।

এসময় তিনি বলেন, ‘আপনি কে? আপনাকে তথ্য দিতে আমি বাধ্য নই। সাংবাদিক হলেই কি আপনাকে তথ্য দিতে হবে?’ পরে তার আচরণের কারণ জানতে চাইলে তিনি আরও উত্তেজিত হয়ে বলেন, ‘আমি এমনই, আমি এভাবেই কথা বলি।’

জানা গেছে, শহিদ জিয়া হল প্রশাসন আসন বরাদ্দ দিলেও অনেক শিক্ষার্থী এখনো নির্ধারিত কক্ষে উঠতে পারেননি। একইসঙ্গে কয়েকটি কক্ষে আসন ফাঁকা থাকলেও সেখানে নতুন করে বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে, হলের বিভিন্ন কক্ষে দীর্ঘদিন ধরে অননুমোদিতভাবে কিছু শিক্ষার্থী ও অন্য হলের আবাসিকরা অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। এতে বৈধভাবে আসন পাওয়া শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের এইচআরডি সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম সাদ্দাম হোসেন নিজের আবাসিক হল না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে শহিদ জিয়া হলের ৩২৩ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন। তিনি মূলত সাদ্দাম হোসেন হলের শিক্ষার্থী। তবে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে তিনি জিয়া হলে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।


জানা গেছে, ৩২৩ নম্বর কক্ষে ১টি ফাঁকা সিটে বরাদ্দ পেয়েছেন আল কুরআন বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ফাহিম সিদ্দিকী। তবে তিনি তার বরাদ্দকৃত রুমে না থেকে অন্য রুমে অবস্থান করছেন। তার রুমে অবস্থান করছেন বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের রিফাত ইসলাম। তিনি ৪১৫ নম্বর কক্ষে আবাসিক শিক্ষার্থী। 

এছাড়া জিয়া হলের ২২৫ নম্বর কক্ষে প্রায় এক মাস ধরে একা অবস্থান করছেন শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূর উদ্দীন। কক্ষটিতে দীর্ঘদিন একটি আসন ফাঁকা থাকলেও প্রশাসন এখনো সেখানে নতুন করে বরাদ্দ দেয়নি। এ কক্ষের বৈধ শিক্ষার্থী শামীম রেজা নিজের নির্ধারিত সিটে না থেকে হলটির ২২১ নম্বর কক্ষে অবস্থান করছেন বলেও জানা গেছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা বলেন, অনেক বৈধ শিক্ষার্থী সিট পাওয়ার পরও নির্ধারিত কক্ষে উঠতে পারছেন না, অথচ কিছু কক্ষ ফাঁকা পড়ে আছে। পাশাপাশি অন্য হলের শিক্ষার্থীরাও হলে অবস্থান করছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে প্রশাসন কিছু শিক্ষার্থীর ক্ষেত্রে নতুন করে সিট বরাদ্দ দিচ্ছে না, কিন্তু একই সঙ্গে অননুমোদিতভাবে অবস্থানরত শিক্ষার্থীদের বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের এমন উদ্যোগকে তারা অবিবেচনাপ্রসূত কার্যক্রম হিসেবে দেখছি।

শাখা ছাত্রশিবিরের এইচআরডি সম্পাদক মুজাহিদুল ইসলাম বলেন, প্রভোস্টের অনুমতি নিয়েই জিয়া হলের শিক্ষার্থী শাহরিয়ারের সঙ্গে রুম এক্সচেঞ্জ করেই তার রুমে ছিলাম। বর্তমানে আমি সেখানে থাকি না, গত তিন মাস ধরে মেসে আছি। আর শাহরিয়ার আমার বৈধ আসনে অবস্থান করছেন। কিছুদিন পর আমরা আবার নিজ নিজ হলে ফিরে যাবো। 

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নূর উদ্দীনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

কর্মীর দুর্ব্যবহারের প্রসঙ্গে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী বলেন, সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের পূর্ণ স্বাধীনতা আছে। সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করা উচিত নয়। আসিফ যদি সাংবাদিকদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আব্দুল গফুর গাজী বলেন, হল কর্মকর্তাদের সংগ্রহ করা ভুল তথ্যে এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। অতিদ্রুত সবগুলো সিটের পুনঃ তালিকা করা হবে। অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সময়ের আলো/জোই  



  বিষয়:   সিট  সাংবাদিক  ইবি  শিবির কর্মী 


Loading...
Loading...
শিক্ষা- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: