জামালপুর সদর উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের বাঁশচড়া এস.বি.জি. মডার্ন উচ্চ বিদ্যালয়ের একমাত্র প্রবেশ পথটির এখন বেহাল দশা। খানাখন্দে ভরা ও ভাঙাচোরা এই সড়কটি দিয়েই প্রতিদিন চরম ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। সম্প্রতি ঝড়ে সড়কের প্রবেশদ্বারে একটি বিশাল গাছ উপড়ে পড়ায় সেখানে বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে, যা যাতায়াত ব্যবস্থাকে আরও সংকটাপন্ন করে তুলেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের গর্তগুলোতে পানি জমে কাদার সৃষ্টি হয়, ফলে শিক্ষার্থীদের পোশাক ও বইখাতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। যাতায়াতে এমন প্রতিবন্ধকতার কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
১৯৪১ সালে সাড়ে তিন একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠটি জেলার অন্যতম প্রাচীন ও স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। বর্তমানে এখানে ৪৬১ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত। শিক্ষার মানে সুনাম থাকলেও অবকাঠামো দিক থেকে বিদ্যালয়টি এখনো পিছিয়ে। সীমানা প্রাচীর না থাকায় টিনের বেড়া দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিদ্যালয়ের সামনে বিশাল খেলার মাঠ থাকলেও যাতায়াতের প্রধান সড়কটির জীর্ণ দশা বর্তমানে মূল সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা চলছে। নিজস্ব শিক্ষার্থী ছাড়াও রামনগর উচ্চ বিদ্যালয়, আম্বিয়া ইয়াকুব বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, গণেশপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও বিয়ারা পলাশতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৪০৫ জন পরীক্ষার্থী এখানে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছেন। ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে পরীক্ষার্থীদের কেন্দ্রে পৌঁছাতে বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।
বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী আফিয়া জান্নাত, সিনথিয়া আক্তার মীম, ইসরাত মৌরিন ও মনির হোসেনসহ আরও অনেকেই জানান, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারহীন অবস্থায় পড়ে আছে। তারা দ্রুত এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. নজরুল ইসলাম জানান, সড়কটি সংস্কারের জন্য আমি জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত আবেদন জমা দিয়েছি। এছাড়া স্থানীয় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শাহ মো. ওয়ারেছ আলী মামুনকেও বিষয়টি মৌখিকভাবে অবহিত করেছি। আমরা দ্রুত সমাধানের অপেক্ষায় আছি।
ইউএনও নাজনীন আখতার বলেন, সড়কটি সংস্কারের বিষয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা প্রকৌশলীকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংস্কারকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
সময়ের আলো/জোই