নওগাঁর পত্নীতলায় একটি দ্রুতগামী প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুর রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা দিলে দুই আরোহী প্রাণ হারিয়েছেন। রোববার (১০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার নজিপুর-ধামুইরহাট আঞ্চলিক সড়কের ‘আমবাটি ডাবল ব্রিজ’ এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন জেলার মান্দা উপজেলার চৌবাড়িয়া গ্রামের শরিফ উদ্দিনের ছেলে মতিউর (৪৫) এবং একই গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে নাজমুল (৪৫)। সোমবার (১১ মে) সকালে আইনি প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ দুটি তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে।
পত্নীতলা থানা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মতিউর ও নাজমুল নিজেদের প্রাইভেটকারে করে ব্যক্তিগত কাজে দিনাজপুরের হিলির উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। পথে আমবাটি ডাবল সেতু এলাকায় পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান এবং গাড়িটি সরাসরি সেতুর কংক্রিটের রেলিংয়ে ধাক্কা দেয়।
এতে প্রাইভেটকারটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং আরোহীরা ভেতরে আটকা পড়েন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে পত্নীতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত নাজমুলের বাবা নজরুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতিবেশী মতিউরকে সঙ্গে নিয়ে তার ছেলে পারিবারিক প্রয়োজনে হিলির দিকে যাচ্ছিলেন। রাতে পুলিশের মাধ্যমে দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তাঁরা হাসপাতালে ছুটে আসেন। শোকাহত পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে পুলিশ ময়নাতদন্ত ছাড়াই লাশ হস্তান্তরের অনুমতি দেয়। গ্রামের দুই প্রতিবেশীর এমন আকস্মিক মৃত্যুতে মান্দার চৌবাড়িয়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নিয়ামুল হক সংবাদমাধ্যমকে জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যান্ত্রিক ত্রুটি বা অতিরিক্ত গতির কারণে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে থাকতে পারে।
আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে সোমবার সকালে মরদেহগুলো স্বজনদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সড়কে বিশৃঙ্খলা রোধ ও দুর্ঘটনা এড়াতে পুলিশি তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সময়ের আলো/টিএইচ