লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় গ্রামীণ স্যানিটেশন প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত কমোড বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মধ্যে বিনামূল্যে উন্নতমানের ‘টুইন পিট কমোড’ বিতরণের কথা থাকলেও, বরাদ্দের বড় অংশ স্থানীয় প্রভাবশালী মহল ও উপজেলা কমিটির নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের প্রতিটিতে ১০০টি করে মোট ৯০০টি কমোড বরাদ্দ দেওয়া হয়।
তবে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদগুলোর দাবি, তারা বরাদ্দের অর্ধেকও হাতে পায়নি। অভিযোগ রয়েছে, মোট বরাদ্দের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে মাত্র ৩৬০টি কমোড বিতরণ করা হচ্ছে। বাকি ৫৪০টি, অর্থাৎ প্রায় ৬০ শতাংশ কমোড উপজেলা কমিটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
চর কাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হারুন আর রশিদ বলেন, ‘পরিষদের ১৩ জন সদস্যের জন্য মাত্র ৪০টি কমোড দেওয়া হয়েছে। আমি নিজে পেয়েছি মাত্র ৩টি। এত অল্পসংখ্যক কমোড কাকে দেব, তা নিয়েই বিপাকে আছি।’
চর কালকিনি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব শাহাদাৎ হোসেন জানান, মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ইউনিয়নে ৪০টি কমোড দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬০টি উপজেলা কমিটি ও স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে বিতরণ করা হবে।
এ বিষয়ে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কর্মকর্তা পানেদা আক্তার বলেন, ‘কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রতি ইউনিয়নে ৪০টি করে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৬০টি উপজেলা কমিটির মাধ্যমে বিতরণ করা হবে। সারা দেশেই এ পদ্ধতিতে কাজ চলছে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ জামান বলেন, ‘ইউনিয়নগুলোতে ৪০টি করে দেওয়া হয়েছে। বাকিগুলো আমাদের কাছে সংরক্ষিত আছে। বিভিন্ন আবেদন এসেছে, যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত উপকারভোগীদের মধ্যে সেগুলো বিতরণ করা হবে।’
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (DPHE) নকশা অনুযায়ী উন্নতমানের সামগ্রী সরবরাহের কথা থাকলেও ভাগ-বাটোয়ারা ও অনিয়মের কারণে সরঞ্জামের গুণগত মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সচেতন মহলের দাবি, প্রকল্পে অনিয়ম ও রাজনৈতিক প্রভাব খতিয়ে দেখে দ্রুত তদন্ত করা হোক এবং প্রকৃত দরিদ্র পরিবারের হাতে কমোড পৌঁছে দেওয়া নিশ্চিত করা হোক।
/এসএকে