নোয়াখালী সদর উপজেলায় অপহরণের পর দুই সহোদর ভাইকে ইয়াবা ট্যাবলেট দিয়ে মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে একই এলাকার প্রতিবেশী আনোয়ারুল ইসলাম হেলালের বিরুদ্ধে।
সোমবার (১১ মে) বেলা তিনটায় নোয়াখালী প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।
ভুক্তভোগী দুই সহোদর ভাই হলো, উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ লক্ষ্মীপুর গ্রামের মো. ইমদাদুল হক ইমন (২২) ও মো. এহসানুল হক দিহান (২০)।
ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, পূর্ব শত্রুতার জেরে হেলালের নেতৃত্বে একদল লোক পরিকল্পিতভাবে অ্যাম্বুলেন্সযোগে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে উপজেলার পূর্ব বদরীপুর ডিএসপি জামে মসজিদের সামনে থেকে দুই ভাইকে অপহরণ করে। পরে দুই ভাইয়ের অভিভাবক বিষয়টি জানতে পেরে দ্রুত ওই মসজিদের সামনে যায় এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে। সিসিটিভি ফুটেজের কথা জানতে পেরে তারা দুই ভাইকে নির্যাতন করে এবং প্যান্টের পকেটে ইয়াবা ট্যাবলেট রেখে মাদক ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত দেখিয়ে পুলিশে দেওয়ার চেষ্টা করে।
ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল করলে, পৌরসভার সোনাপুর কাঠপট্টি এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ। পরে অপহরণের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করলে মাদক ব্যাবসার কোনও সংশ্লিষ্টতা না পেয়ে পরিবারের কাছে দুই ভাইকে হস্তান্তর করে পুলিশ।
ভুক্তভোগীদের পরিবার দাবি করেছে, প্রতিপক্ষ প্রতিবেশী হেলাল সম্পত্তি দখল ও আধিপত্য বিস্তারের জন্য দীর্ঘদিন ধরে তাদের হয়রানি করে আসছিল।
এদিকে এ ঘটনায় জড়িত আনোয়ারুল ইসলাম হেলাল (৩৫), মো. আবদুল্লাহ প্রকাশ রোমান, মো. সুনাম (৩৫), মো. শাওন ড্রাইভার (৩০), মো. সাদ্দাম হোসেন (১৮) ও মো. মেহেদী সহ অজ্ঞাত আরও ৫/৬ জনের নামে ভুক্তভোগীদের পিতা শোয়েব হোসেন বাদী হয়ে গত ৩ মার্চ সুধারাম মডেল থানায় একটি অপহরণের মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়ের করার আড়াই মাস পার হলেও আসামিদের ধরতে গড়িমসি করছে পুলিশ।
সুধারাম মডেল থানার ওসি তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘অপহরণ মামলার আসামিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’
/মহু