ঝালকাঠির পৌর শহরের ৭নং ওয়ার্ডের কেফাইতনগর এলাকার লেহাজ উদ্দিন হাওলাদারের বাড়ি থেকে কাজী বাড়ি মসজিদ পর্যন্ত প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়ক দীর্ঘ দুই দশকেও উন্নয়নের মুখ দেখেনি।
এই এলাকাবাসীর চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি বর্তমানে খানাখন্দ, কাদা ও ধুলাবালির কারণে চরম দুর্ভোগের প্রতীকে পরিণত হয়েছে| প্রতিদিন স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও লবন মিলের শ্রমিকদের চলাচলের জন্য এই রাস্তাটি গুরুত্বপূর্ণ ।বর্ষার মৌসুমে তারা ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ না থাকায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এখন এটি যেন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে| বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ভ্যান, অটোরিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ হয়ে যায়| অনেক সময় যানবাহন কাদায় আটকে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দুর্ভোগে থাকতে হয় যাত্রীদের।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড়ো বড়ো গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। আবার কোথাও কাদায় একাকার হয়ে গেছে পুরো রাস্তা। সামান্য বৃষ্টি হলেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা, ফলে পথচারীদের হাঁটাচলাই কষ্টকর হয়ে পড়ে। শুকনো মৌসুমে ধুলার কারণে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।
স্কুলগামী শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার জানায়, বৃষ্টি হলে স্কুলে ও প্রাইভেটে যেতে খুব সমস্যা হয় কাদা মাড়িয়ে যেতে হয়। অনেক সময় পড়ে গিয়ে বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. মিজানুর রহমান মহাসিন বলেন, ২০ বছর ধরে শুধু আশ্বাসই শুনছি। নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিরা রাস্তা সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু নির্বাচন শেষ হলেই আর কোনো খবর থাকে না| এই রাস্তায় চলাচল করতে গিয়ে প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
ঝালকাঠি পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী টি এম রেজাউল হক রিজভী বলেন,টেকসই নগর উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রয়োজনীয় কাজের জন্য চাহিদা ইতোমধ্যে প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি সিটিসিআরপি (উপকূলীয় শহর জলবায়ু সহিষ্ণু প্রকল্প)-এর অধীনেও কাজের প্রস্তাবনা জমা দেওয়া হয়েছে।প্রকল্পের বরাদ্দ পাওয়া গেলে পূর্ণাঙ্গ কাজ শুরু করা হবে। তবে এর আগেই আগামী টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ১৫০ মিটার কাজ শুরু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
/এসএকে