ক্রমাগত বৈষম্যের শিকার হয়ে উন্নয়ন বঞ্চিত রংপুর সিটি করপোরেশন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মতো আসন্ন ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও সরকারের উন্নয়ন বাজেটে রংপুর সিটি করপোরেশনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে শূন্য টাকা। এমনকি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রাক্কলনেও বরাদ্দ দেখানো হয়েছে ০.০০ টাকা।
এবিষয়ে রংপুর আইনজীবী সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক একেএম হারুন উর রশীদ সহ রংপুর অঞ্চলের মানুষ গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
জানা গেছে, দেশের অন্যান্য সিটি করপোরেশনের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকলেও রংপুর সিটি করপোরেশন বারবার উপেক্ষিত হচ্ছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে দেশের সব সিটি করপোরেশনে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৫ হাজার ৯৫৯ কোটি টাকা।
সেখানে রংপুর পেয়েছিল মাত্র ৪৩ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। পরের অর্থবছরে সেই বরাদ্দ কমে দাঁড়ায় ২০ কোটিতে। আর বর্তমানে তা একেবারে শূন্যে নেমে এসেছে।
রংপুর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাকিব হাসান রবিবার (১১ মে সন্ধ্যায়) সময়ের আলো কে বলেন বর্তমান প্রশাসক যোগদানের পরে ইতোমধ্যে ১২ টি প্রকল্প উপস্থাপন করেছি বিনয়ের সাথে।
আশা করছি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান নেক বৃষ্টি দিয়ে অবহেলিত রংপুরের জন্য প্রকল্প ১২ টি মঞ্জুর করে বরাদ্দ প্রদানে নির্দেশনা দিবেন।
রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী সময়ের আলো কে বলেন, সম্প্রতি আক্ষেপ করে বলেন, নিজস্ব সীমিত আয়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বিশাল আয়তনের এই সিটি করপোরেশনে সড়ক, ড্রেনেজ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও নগর অবকাঠামো উন্নয়নে জরুরি ভিত্তিতে সরকারি সহায়তা প্রয়োজন।
স্থানীয় নাগরিক সমাজের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব ও প্রভাবশালী মহলের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে রংপুর বৈষম্যের শিকার। অথচ ২০১২ সালে পৌরসভা থেকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার পর নাগরিক সুবিধা আরও বাড়ার কথা ছিল। বাস্তবে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় সেবার মান উল্টো কমেছে।
রংপুর মহানগর সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সভাপতি ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, ইতিপূর্বে বিরোধী দলের প্রতিনিধি ছিল। এখন বিএনপি'র প্রতিনিধি সঙ্গত কারণেই বৈষম্য আর নয়।
এ অবস্থায় রংপুর অঞ্চলের মানুষ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দৃষ্টি কামনা করেছেন। তাদের প্রত্যাশা, দলীয় বা রাজনৈতিক বিবেচনার ঊর্ধ্বে উঠে উত্তরাঞ্চলের এই গুরুত্বপূর্ণ সিটি করপোরেশনের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
/এসএকে