ইরানের পক্ষ থেকে পশ্চিমা নৌ তৎপরতা নিয়ে সতর্কবার্তার পর সোমবার ফ্রান্স সরকার জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে তাদের পরিকল্পিত সামুদ্রিক অভিযান কখনোই আক্রমণাত্মক নয়।
বিএফএমটিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সরকারি মুখপাত্র মউদ ব্রেজোঁ বলেন, শুরু থেকেই আমরা খুব স্পষ্ট ও ধারাবাহিকভাবে বলে আসছি— এটি সম্পূর্ণরূপে প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান।
তিনি জানান, যুক্তরাজ্য ও অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে ফ্রান্স হরমুজ প্রণালীতে নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারে সহায়তা করতে চায়।
ব্রেজোঁ বলেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি অনুকূলে এলে, অঞ্চলের বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে সম্পূর্ণ প্রতিরক্ষামূলক অবস্থানে থেকেই আমরা হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি।
এর আগে, ইরান সতর্ক করে বলেছিল, হরমুজ প্রণালী বা এর আশপাশে ফ্রান্স কিংবা ব্রিটেনের কোনো নৌ মোতায়েন হলে তাদের সশস্ত্র বাহিনী তাৎক্ষণিক ও কঠোর জবাব দেবে।
ব্রেজোঁ বলেন, প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বহুবার ফ্রান্সের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন এবং আক্রমণাত্মক উদ্দেশ্যের যেকোনো ইঙ্গিত প্রত্যাখ্যান করেছেন।
তিনি আরও জানান, দক্ষিণ লোহিত সাগরের দিকে বিমানবাহী রণতরী শার্ল দ্য গল পাঠানোসহ ওই অঞ্চলে ফ্রান্সের সামরিক উপস্থিতির লক্ষ্য হচ্ছে সামুদ্রিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়তা করা।
তার ভাষায়, হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করাই আমাদের উদ্দেশ্য। এটি আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য প্রয়োজনীয়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর হামলা চালায়। এর জবাবে তেহরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায়। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যায়।
পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও ইসলামাবাদে আলোচনায় স্থায়ী সমাধান আসেনি। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ছাড়াই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ান, যাতে স্থায়ী সমাধানের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পথ উন্মুক্ত হয়।
সূত্র : আনাদোলু
/ইউএমএইচ