ঢাকার অদূরে সাভারের আশুলিয়ায় পারভেজ নামের এক যুবককে বাসায় ডেকে এনে কুপিয়ে হত্যা করেছে শাহাদাত নামের আরেক যুবক। তারা একে অপরের বন্ধু ছিল বলে জানা গেছে। এ ঘটনার পরপরই ঘাতক শাহাদাত পালিয়ে গেছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শাহাদাতকে না পেয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তার মা, বাবা ও ভাইকে আটক করেছে।
সোমবার আনুমানিক বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম। এর আগে রোববার রাতে আশুলিয়ার শিমুলিয়া ইউনিয়নের কোনাপাড়া এলাকায় হাজি জয়নালের ভাড়া বাসায় মর্মান্তিক এই হত্যার ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। পরে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শাহাদাতের বাবা আলমগীর হোসেন, মা শাহিদা আক্তার এবং ভাই শাহিন হোসেনকে আটক করে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে আশুলিয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। মরদেহ থানায় নিয়ে যাওয়ার পর ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ঘাতকের মা, বাবা এবং ভাইকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। সেই সঙ্গে শাহাদাতকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।
নিহত পারভেজ হোসেন শেরপুর জেলার নকলা উপজেলার রাণীগাঁও গ্রামের আজাহার আলীর ছেলে বলে জানা গেছে।
তিনি আশুলিয়ার গোহাইলবাড়ি মেশিনপাড় এলাকায় স্ত্রীকে নিয়ে বসবাস করতেন। অন্যদিকে ঘাতক শাহাদাত হোসেন গাইবান্ধা জেলার সদর থানার কলাইহাটি কুমাড়পাড়া এলাকার আলমগীর হোসেনের ছেলে। তিনি পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে আশুলিয়ার কোনাপাড়া এলাকার হাজি জয়নালের বাড়িতে ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বন্ধু পারভেজকে নিজ বাসায় ডেকে আনেন শাহাদাত। পরে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে শাহাদাত উত্তেজিত হয়ে তার ঘরে থাকা ধারালো দা দিয়ে বন্ধু পারভেজকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়।
পরে তার কান্নার শব্দ শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে গুরুতর আহত পারভেজকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।