আসন্ন ঈদুল আজহা উপলক্ষে ভোলার রাজাপুর গ্রামের খামারি মো. আলী তার পালের সেরা তিনটি বিশাল আকৃতির গরু ‘জমিদার’, ‘বাহাদুর’ ও ‘কালাচান’ নিয়ে হাটে নামার প্রস্তুতি শেষ করেছেন।
প্রায় দুই বছরের নিবিড় যত্নে লালন-পালন করা এই পশুগুলো এরই মধ্যে এলাকায় বেশ সাড়া ফেলেছে। বিশালাকার এই গরুগুলোকে একনজর দেখতে প্রতিদিনই উৎসুক মানুষ ও সম্ভাব্য ক্রেতারা তার খামারে ভিড় করছেন।
খামারের সবচেয়ে বড়ো আকর্ষণ ‘জমিদার’। ১৫ মণ ওজনের এই ষাঁড়টির উচ্চতা ৫ ফুট এবং দৈর্ঘ্য প্রায় ৮ ফুট। দুই বছর আগে মাত্র ১ লাখ ৪০ হাজার টাকায় কেনা এই গরুটিকে দেশীয় ও প্রাকৃতিক খাবার খাইয়ে বড়ো করেছেন আলী। বর্তমানে তিনি এর দাম হাঁকিয়েছেন ৪ লাখ টাকা।
‘জমিদার’-এর পাশাপাশি ১৪ মণের ‘বাহাদুর’ এবং ১৩ মণের ‘কালাচান’-কেও হাটে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। এই দুটির প্রতিটির দাম ৩ লাখ টাকার বেশি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
খামারি মো. আলী দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে এই ব্যাবসার সঙ্গে জড়িত। বংশপরম্পরায় পাওয়া এই অভিজ্ঞতায় তিনি কোনো কৃত্রিম ওষুধ ছাড়াই কাঁচা ঘাস, গম, ভুট্টা, খৈল ও ভুষির মতো পুষ্টিকর খাবারের মাধ্যমে গরুগুলোকে প্রস্তুত করেন। শুধু ‘জমিদার’-এর পেছনেই প্রতিদিন তার খরচ হয় প্রায় ১ হাজার টাকা। মায়ার বন্ধন থাকলেও ব্যাবসার পুঁজি ও লাভের আশায় প্রিয় পশুগুলোকে হাটে বিক্রির অপেক্ষায় দিন গুনছেন তিনি।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম খাঁন জানান, ‘জমিদার’ ভোলা জেলার অন্যতম বড়ো গরুগুলোর একটি। বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকলে খামারি তার প্রত্যাশিত ৪ লাখ টাকা মূল্যে এটি বিক্রি করে লাভবান হতে পারবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সময়ের আলো/জেডি