ইসলামে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতার ব্যাপারে বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। ইবাদত কবুলের পূর্বশর্তই হচ্ছে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা। জীবনযাপনে নানাভাবে আমাদের পাক-পবিত্রতা নষ্ট হয়। কিছু ক্ষেত্রে ওজু করার দ্বারাই পবিত্রতা অর্জিত হয়ে যায়। তবে কখনো পবিত্রতা অর্জনে গোসলের প্রয়োজন হয়। কিন্তু অনেকেই এই ফরজ গোসলের বিধি সম্পর্কে উদাসীন। অথচ কখনো অপবিত্র হলে সঙ্গে সঙ্গে পবিত্র হওয়ার নির্দেশ রয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তোমরা যদি অপবিত্র (জুনুবি) অবস্থায় থাকো, তবে নিজেদের শরীর (গোসলের মাধ্যমে) ভালোভাবে পবিত্র করে নাও।’ (সুরা মায়েদা : ৬)
প্রথমে জেনে নেওয়া দরকার যেসব কারণে গোসল ফরজ হয়-১. স্বপ্নদোষ বা উত্তেজনাবশত বীর্যপাত হলে।
২. সহবাসে, বীর্যপাত হোক বা না হোক।
৩. মেয়েদের হায়েজ-নিফাস শেষ হলে।
৪. ইসলাম গ্রহণ করলে (নব মুসলিম হলে)। সুতরাং ফরজ গোসল না করে নামাজ পড়া, তওয়াফ করা, কুরআন তেলাওয়াত ও স্পর্শ করা এবং মসজিদে গমন করা নিষেধ।
আবার এ অবস্থায় কোনো কারণ ছাড়া এক ওয়াক্ত নামাজের সময় অতিবাহিত হয়ে যাওয়া মারাত্মক গুনাহ। লজ্জা বা গোসলের পরিবেশ নেই মনে করে সময়ক্ষেপণ করা শরিয়তসম্মত ওজর নয়। তাই দ্রুত গোসল করা চাই। অপবিত্র অবস্থায় মনে মনে জিকির-আজকার করা, দরুদ-দোয়া-অজিফা পাঠ করা, ঘরের কাজ করা, পানাহারসহ এ ধরনের কাজে নিষেধ নেই। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, মদিনার কোনো এক পথে একবার নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়ে গেল। আমি তখন জুনুবি অর্থাৎ ফরজ গোসলের অবস্থায় ছিলাম।
আরও পড়ুন
আমি নিজেকে নাপাক মনে করে সরে পড়লাম। পরে গোসল করে পুনরায় নবীজি (সা.)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎ হলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন- আবু হুরায়রা! কোথায় গিয়েছিলে? আমি বললাম, অপবিত্র অবস্থায় আপনার সঙ্গে বসা সমীচীন মনে করিনি। নবীজি (সা.) বললেন, সুবাহানাল্লাহ! মুমিন নাপাক থাকতে পারে না (বুখারি : ২৭৯)। এর অর্থ হলো- গোসল ফরজ হওয়ার মতো কিছু হলে তার জন্য কিছু বিধানে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। কিন্তু ব্যক্তিবিশেষ সে নাপাক না।
ফরজ গোসলের ফরজ তিনটি-১. কুলি করা।
২. নাকে পানি দেওয়া।
৩. পুরো শরীরে পানি পৌঁছানো।
এ তিনটির কোনো একটি ছুটে গেলে ফরজ গোসল আদায় হবে না। অপবিত্র ব্যক্তি প্রথমে অপবিত্রতা দূর করার নিয়ত করবে। তারপর লজ্জাস্থান বা শরীরে লেগে থাকা নাপাকি ধুয়ে ফেলবে। তারপর ওজু করে পানি দিয়ে মাথা ভিজিয়ে প্রথমে শরীরের ডান অংশে এবং পরে বাম অংশে পানি ঢালবে। তারপর সারা শরীরে পানি ঢালবে। আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর পুণ্যবতী সহধর্মিণী হজরত মায়মুনা (রা.) বলেছেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর জন্য গোসলের পানি রাখলাম। তা দিয়ে তিনি (জানাবাতের ফরজ) গোসল করলেন। প্রথমে পানি ঢালার পাত্র ডান হাতের ওপর কাত করে ডান হাত দুই বা তিনবার ধৌত করলেন। অতঃপর লজ্জাস্থানের ওপর পানি ঢেলে বাঁ হাত দিয়ে ধৌত করলেন। পরে মাটির ওপর হাত ঘষে (দুর্গন্ধমুক্ত হওয়ার জন্য) তা পানি দিয়ে ধৌত করলেন। অতঃপর কুলি করলেন এবং নাক পরিষ্কার করলেন।
তারপর মুখমণ্ডল ও দুই হাত ধৌত করলেন। অতঃপর মাথা ও সর্বাঙ্গে পানি ঢাললেন। সবশেষে ওই স্থান থেকে অল্প দূরে সরে গিয়ে উভয় পা ধৌত করলেন’ (আবু দাউদ : ২৪৫)। এ ছাড়া কারও যদি রোগজনিত কারণে লাগাতার বীর্য, স্রাব বা ইস্তিহাজার রক্ত ঝরে, তবে তার জন্য গোসল ফরজ নয়; প্রত্যেক নামাজের সময় ওজুই যথেষ্ট। এসব অবস্থায় নামাজ মাফ নয়।
এএডি/