মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে কিশোরদের মধ্যে মাদক সেবন ও বিক্রির প্রবণতা। বিশেষ করে ইয়াবার সহজলভ্যতা ও কম দামে পাওয়ার সুযোগে উঠতি বয়সের অনেক কিশোর জড়িয়ে পড়ছে মাদক ব্যবসায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল মাদক কারবারিরা নিজেদের আড়ালে রাখতে কিশোরদের ব্যবহার করছে, ফলে ধ্বংসের মুখে পড়ছে তাদের ভবিষ্যৎ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিবচর পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের অলিগলিতে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে ইয়াবা কেনা-বেচা। প্রথমে কৌতূহল বা বন্ধুদের প্রভাবে কেউ কেউ ইয়াবা সেবন শুরু করলেও পরে নেশার খরচ জোগাতে নিজেরাই মাদক বিক্রির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদকসেবী জানান, খুচরা বাজারে প্রতি পিস ইয়াবা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে যারা সরবরাহের কাজ করে, সেই কিশোরদের কাছে তা ২০০ টাকায় দেওয়া হয়। দিনে ১০ পিস বিক্রি করলেই নিজেদের নেশার খরচ উঠে আসে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, শিবচরের একাধিক ওয়ার্ডে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে এমন অসংখ্য কিশোর মাদক বিক্রেতা। অনেক সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে আটক হলেও জামিনে মুক্তি পেয়ে তারা আবারও একই কাজে জড়িয়ে পড়ছে। ভয়ের কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে এসব বিষয়ে কথা বলতে চান না।
সচেতন মহল ও অভিভাবকদের মতে, কিশোরদের এই ভয়াবহ ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে হলে প্রয়োজন কঠোর মাদকবিরোধী অভিযান, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবার থেকে নিয়মিত নজরদারি।
এ বিষয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলেন, আমরা নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছি। ইতোমধ্যে বেশ কিছু মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে পুলিশ।
অন্যদিকে শিবচরের সংসদ সদস্য হানজালা বলেন, কেউ মাদকসহ কোনো কারবারিকে ধরিয়ে দিলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে তাকে নগদ অর্থ দিয়ে পুরস্কৃত করবেন। শিবচরকে মাদকমুক্ত করতে অতীতেও কাজ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মাদক সংশ্লিষ্টতায় আমার দলের কেউ কিংবা কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত থাকলেও কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। পরিচয় বা প্রভাব কোনো কিছুই বিবেচনায় নেওয়া হবে না।
সময়ের আলো/জোই