শেরপুরে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল, বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি

শেরপুর প্রতিনিধি

সারাদেশ

শেরপুরে ভোররাত থেকে দফায় দফায় ভারী বর্ষণের ফলে জেলার চারটি পাহাড়ি নদীতে তীব্র স্রোতে পাহাড়ি ঢল নেমেছে। একই সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র

2026-05-13T21:03:04+00:00
2026-05-13T21:19:26+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
শেরপুরে ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢল, বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ৯:০৩ পিএম  আপডেট: ১৩.০৫.২০২৬ ৯:১৯ পিএম
চেল্লাখালী নদীর গোল্লারপাড় এলাকায় বাঁধ ভেঙে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। ছবি : সময়ের আলো
শেরপুরে ভোররাত থেকে দফায় দফায় ভারী বর্ষণের ফলে জেলার চারটি পাহাড়ি নদীতে তীব্র স্রোতে পাহাড়ি ঢল নেমেছে। একই সঙ্গে ব্রহ্মপুত্র নদের পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাহাড়ি নদীগুলোর পানি ক্রমাগত বাড়তে থাকায় জেলাজুড়ে আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালী নদীর একটি বাঁধ ভেঙে ঢলের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

বুধবার (১৩ মে) বিকেলে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানায়, ঝিনাইগাতির মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীর পানি বিপদসীমা ছুঁইছুঁই করছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে নালিতাবাড়ীর চেল্লাখালী নদী, যা বাতকুচি পয়েন্টে বিপদসীমার ১৬০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তবে ভোগাই নদী ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের পানি এখনও বিপদসীমার বেশ নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পাউবোর রেকর্ড অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নালিতাবাড়ীতে সর্বোচ্চ ৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।

বিকেলে চেল্লাখালী নদীর গোল্লারপাড় এলাকায় পানির তোড়ে বাঁধের একটি অংশ ভেসে গেছে। এর ফলে দ্রুতগতিতে ঢলের পানি ফসলি জমিতে প্রবেশ করছে। নদী তীরবর্তী বাসিন্দারা ভাঙন ও আকস্মিক বন্যার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। বৃষ্টির কারণে বোরো ধান কাটা ও মাড়াই নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।


জেলা কৃষি বিভাগের তথ্য মতে, অসময়ের এই টানা বৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের ২৪৫ হেক্টর বোরো জমি আগে নিমজ্জিত হয়েছিল। কয়েকদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার পর বুধবারের নতুন ঢলে বোরো ফসল আবারও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। নালিতাবাড়ীর দক্ষিণ রানীগাঁও গ্রামের কৃষক শামছুদ্দিন জানান, তার তিন একর বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে সম্পূর্ণ পচে গেছে, যেখান থেকে তিনি কোনো ধানই ঘরে তুলতে পারেননি।

শেরপুর কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, প্রথম দফার বৃষ্টির পর রোদ ওঠায় তলিয়ে যাওয়া জমির পানি শুকিয়ে গিয়েছিল, ফলে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়েছিল। তবে আজকের নতুন ঢল চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি আরও জানান, জেলার নিম্নাঞ্চলের প্রায় ৬৭ ভাগ বোরো ধান ইতোমধ্যে কাটা শেষ হয়েছে। যদি নতুন করে ভারি বৃষ্টি না হয়, তবে বড় ক্ষয়ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   শেরপুর  ভারি বর্ষণ  পাহাড়ি ঢল  বাঁধ ভেঙে  পানি 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: