কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত ১৪, মৃত্যু ৫

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

সারাদেশ

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বজরা গ্রামে গত ২২ এপ্রিল একটি কুকুর একদিনে ১৪ জনকে কামড়ায়। ঘটনার তিন সপ্তাহের মাথায় পাঁচজনের মৃত্যু

2026-05-13T22:29:23+00:00
2026-05-13T22:29:23+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
জলাতঙ্ক, নাকি ব্যবস্থাপনার ব্যর্থতা?
কুকুরের কামড়ে আক্রান্ত ১৪, মৃত্যু ৫
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৩ মে, ২০২৬, ১০:২৯ পিএম 
মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত না হলেও এলাকায় জলাতঙ্কের ভিতি ছড়িয়ে পড়েছে। ছবি : সংগৃহীত
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বজরা গ্রামে গত ২২ এপ্রিল একটি কুকুর একদিনে ১৪ জনকে কামড়ায়। ঘটনার তিন সপ্তাহের মাথায় পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো নিশ্চিত না হলেও এলাকাজুড়ে জলাতঙ্কের ভিতি ছড়িয়ে পড়েছে। 

একই সঙ্গে উঠে এসেছে স্বাস্থ্য নজরদারির ভয়াবহ দুর্বলতা। ঘটনার আড়াই সপ্তাহ পর্যন্ত বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে ছিল সম্পূর্ণ অজানা।

গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের বজরা এলাকায় গত ২২ এপ্রিল একটি কুকুর একদিনে ১৪ জনকে কামড়ায়। ঘটনার প্রায় তিন সপ্তাহ পর স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মী ও সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে বিষয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে আসে।

গত ১১ মে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় ঘটনাটি আলোচনায় উঠলে স্থানীয় প্রাণিসম্পদ বিভাগও অবহিত হয়।

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. দিবাকর বসাক জানান, আক্রান্ত ১৪ জনের কেউই চিকিৎসার জন্য স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যাননি। 

পরে স্থানীয় স্বাস্থ্যকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে খোঁজ নিলে জানা যায়, আক্রান্তরা গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল ও রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছিলেন এবং অ্যান্টি র‌্যাবিস ভ্যাকসিন নেওয়া শুরু করেছিলেন। তবে টিকার পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন হয়েছিল কি না, তা জানা যায়নি।

এরপর একে একে মৃত্যুর খবর আসতে থাকে। ৬ মে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন, ৮ মে আরও একজন মারা যান। ১২ ও ১৩ মে আরও দুজন নিজ বাসায় মৃত্যুবরণ করেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে মৃত্যুর কারণ নিয়ে রয়েছে স্পষ্ট ধোঁয়াশা। মোট পাঁচজনের মৃত্যু হলেও মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি গাইবান্ধা স্বাস্থ্য বিভাগ। তবে এ বিষয়ে কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মনোয়ার আলম সরকার জানান, রংপুর মেডিকেলে মারা যাওয়া তিনজনের মৃত্যু সনদে (এমসিসিওডি) কারণ হিসেবে লেখা হয়েছে ভিন্ন ভিন্ন রোগের নাম। 

আফরুজা বেগম (৪০)-এর ক্ষেত্রে ‘হার্ট অ্যাটাক’, রতনেশ্বর বর্মণ (৪২)-এর ক্ষেত্রে ‘নিউমোনিয়া’ এবং ফলু মিয়া (৫২)-এর ক্ষেত্রে ‘কুকুরের কামড়ের গভীর ক্ষত’। নিজ বাড়িতে মারা যাওয়া বাকি দুজনের ক্ষেত্রে চিকিৎসা- সংক্রান্ত কোনো নথি এখনও পাওয়া যায়নি।

এই ঘটনা উপজেলার স্বাস্থ্য নজরদারি ব্যবস্থার দুর্বলতাকেও সামনে এনেছে। ২২ এপ্রিলের কামড়ের ঘটনা আড়াই সপ্তাহেরও বেশি সময় স্বাস্থ্য বিভাগের অজানা থেকে যায়। 

এই দেরি প্রশ্ন তুলছে রোগতাত্ত্বিক তদারকি ও সামাজিক সচেতনতার ঘাটতি নিয়ে। এমনটাই বলছেন স্থানীয় বিশিষ্টজনরা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কুকুরের কামড়ের পর দ্রুত নিকটস্থ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে র‌্যাবিস টিকা নেওয়া এবং ঘটনা নথিভুক্ত করা স্বাস্থ্যগত ও আইনগত উভয় কারণেই অপরিহার্য। 

জলাতঙ্ক রোগে একবার উপসর্গ দেখা দিলে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা প্রায় শূন্যে নেমে আসে।

বর্তমানে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারিভাবে সরবরাহ করা মাত্র ৩০ ভায়াল অ্যান্টি র‌্যাবিস ভ্যাকসিন রয়েছে, যা আক্রান্ত এলাকার চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। 

এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ায় ও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে আরও ভ্যাকসিন সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদা পাঠিয়েছে।

গাইবান্ধা সিভিল সার্জন ডা. মো. রফিকুজ্জামান বলেন, ‘আক্রান্তরা সময়মতো অ্যান্টি র‌্যাবিস ভ্যাকসিন নিয়েছিলেন কি না এবং পূর্ণ ডোজ সম্পন্ন করেছিলেন কি না- সেটি অনুসন্ধান করা হচ্ছে। পাঁচজনের মৃত্যু জলাতঙ্কে হয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করা হচ্ছে।’

/এসএকে


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: