কুরবানির ঈদ সামনে রেখে ঢাকার কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর তোড়জোড় শুরু হয়েছে অনেক আগেই। এখনও ইজারা কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ না হলেও বিভিন্ন এলাকায় মাঠ দখল করে বাঁশ, টিন ও অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে।
এতে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, হাট প্রস্তুতির নামে কয়েকটি খেলার মাঠ আগেভাগেই দখলে নেওয়ায় শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি স্থানীয় সড়ক ও আশপাশের এলাকাতেও বাড়ছে ভোগান্তি।
এ বিষয়ে কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক বলেন, হাট পরিচালনায় কঠোর শর্ত আরোপ করা হবে। নির্ধারিত সময়ের আগে কোথাও হাটের কার্যক্রম চালানোর সুযোগ নেই। এ ছাড়া যানজট, জনদুর্ভোগ বা পরিবেশ দূষণ সৃষ্টি হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও জানান, বিষয়টি নজরদারিতে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় একই চিত্র বারবার ফিরে আসছে।
নগর পরিকল্পনাবিদ ড. আদিল মোহাম্মদ খান বলেন, নগর এলাকায় খেলার মাঠ এমনিতেই কমে যাচ্ছে। সেই মাঠগুলো আবার কুরবানির হাটের জন্য দীর্ঘসময় দখলে থাকায় শিশু-কিশোরদের স্বাভাবিক বিকাশ ব্যাহত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার আমবাগিচা খেলার মাঠে ইতিমধ্যে পশুর হাট বসানোর প্রস্তুতিমূলক কাজ শুরু হয়েছে। মাঠজুড়ে বাঁশ ফেলা, ঘের তৈরি এবং অস্থায়ী দোকান নির্মাণের কার্যক্রম চলছে। একইভাবে রোহিতপুর নতুন সোনাকান্দা ও শাক্তা মিলিনিয়াম সিটি এলাকার মাঠেও হাট ঘিরে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, প্রতি বছরই নির্ধারিত সময়ের আগেই মাঠ দখল করে প্রস্তুতি শুরু করা হয়। এতে একদিকে যেমন খেলাধুলার পরিবেশ নষ্ট হয়, অন্যদিকে সাধারণ মানুষের চলাচলেও সমস্যা তৈরি হয়।
মো. হাসান নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ইজারা কার্যক্রম শেষ হওয়ার আগেই মাঠ দখল করে হাটের প্রস্তুতি নেওয়াটা এক ধরনের বিশৃঙ্খলা। এতে এলাকাবাসী যেমন ভোগান্তিতে পড়ছে, তেমনি শিশুদের খেলাধুলার পরিবেশও নষ্ট হচ্ছে। প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।
ব্রুব কুমার নামে এক চাকরিজীবী বলেন, প্রতি বছরই ঈদের আগে একই অবস্থা তৈরি হয়। নির্ধারিত সময়ের আগেই বাঁশ-টিন ফেলে মাঠ দখল করা হয়। সাধারণ মানুষ কিছু বললেও তেমন কোনো ফল পাওয়া যায় না। এবার দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, চলতি বছর কেরানীগঞ্জে ১০টি পশুর হাট বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশই অস্থায়ী। তবে শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের আগে হাটের কোনো প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ নেই।
সময়ের আলো/জেডি