চীনের জিয়াংসু প্রদেশের লিয়ানইউনগাং বন্দরে ২০১০ সালের ৩১ অক্টোবর বিরল খনিজযুক্ত মাটি রফতানির জন্য নেওয়া হচ্ছে— এ ধরনের ছবি বহু বছর ধরে দেখাচ্ছে এই খাতে চীনের শক্ত অবস্থান।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় বিরল খনিজ উৎপাদনে চীনের বড় ধরনের নিয়ন্ত্রণ দেশটির প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধা হিসেবে কাজ করছে।
বিরল খনিজ হলো ১৭ ধরনের রাসায়নিক উপাদানের একটি দল, যা আধুনিক প্রযুক্তির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো ব্যবহার করা হয় যুদ্ধবিমান, স্মার্টফোন, বৈদ্যুতিক গাড়ি, কম্পিউটার চিপসহ বিভিন্ন উন্নত প্রযুক্তি তৈরিতে।
উদাহরণ হিসেবে, এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান থেকে শুরু করে আইফোন— সবকিছুর কাজের পেছনে এই খনিজগুলোর বড় ভূমিকা আছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খাতে চীনের নিয়ন্ত্রণ এত বেশি যে বিশ্বের অনেক দেশের সরবরাহ ব্যবস্থা তাদের ওপর নির্ভরশীল। তাই যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় এটি বেইজিংয়ের দরকষাকষির একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।
গত বছরের এপ্রিলে যুক্তরাষ্ট্র–চীন বাণিজ্য যুদ্ধের তীব্র সময়ে চীন সাত ধরনের বিরল খনিজের ওপর লাইসেন্সিং ব্যবস্থা চালু করে। এতে এসব উপাদান ও চুম্বকের রফতানি সীমিত হয়ে যায়। অক্টোবরে এই নিয়ন্ত্রণ আরও কঠোর করা হয়। পরে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প–শি বৈঠকে যে এক বছরের যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়, তার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপগুলো সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান আর্থার ডি লিটলের অংশীদার আমের হাগে চাহিন বলেন, চীন নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আগে বাজারে বিরল খনিজ সরবরাহ এখনও আগের মতো স্বাভাবিক হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, চীনের লাইসেন্সিং ব্যবস্থা অনেক জটিল এবং সময়সাপেক্ষ। রফতানির অনুমতির জন্য আবেদনগুলো দীর্ঘ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়, যা সরবরাহে ঘাটতি তৈরি করছে।
এই ব্যবস্থার মাধ্যমে চীন নিশ্চিত করতে চায় যে বিরল খনিজ যাতে সামরিক কাজে ব্যবহার না হয়। তাই কোম্পানিগুলোকে প্রমাণ করতে হয়, এগুলো সামরিক কাজে ব্যবহার হবে না— যা আরও একটি বাধা তৈরি করে।
জিঞ্জার ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের পরিচালক টমাস ক্রুমার বলেন, এই লাইসেন্স অনুমোদনের প্রক্রিয়ায় অনেক আবেদন দীর্ঘ সময় ধরে আটকে থাকে।
আর্থার ডি লিটলের গ্লোবাল ন্যাচারাল রিসোর্স সেন্টারের প্রধান ইলিয়া এপিখিন বলেন, ইউরোপের আবেদনগুলোর মধ্যে মাত্র প্রায় ২৫ শতাংশ অনুমোদন পায়।
এই কারণেই বিরল খনিজ এখনো চীনের অন্যতম শক্তিশালী অর্থনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে আছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীন— দুই দেশই আলোচনার সময় এই বিষয়টি ভালোভাবেই মাথায় রাখে।
সূত্র : আল-জাজিরা
/ইউএমএইচ