অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে দীর্ঘদিন ধর্ম মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করলেও রাষ্ট্রীয় সর্বোচ্চ পদে থেকে তিনি এক টাকাও ঘুষ খাননি বলে দাবি করেছেন সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। নিজের সাদামাটা জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম শহরে এখনও তিনি ভাড়া বাসায় থাকেন, নিজের কোনো বাড়ি নেই। বর্তমান সমাজে চুরি ও লুটপাট ফ্যাশনে পরিণত হয়েছে। প্রত্যেককে একদিন কবরে আল্লাহর কাছে জবাব দিতে হবে।
গত বুধবার রাতে নোয়াখালীর চাটখিল কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার জামে মসজিদ মাঠে বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি আয়োজিত এক মহাসমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. খালিদ হোসেন বলেন, মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় বা তাকওয়া নেই বলেই তারা আজ খুন, সুদ, ঘুষ ও দুর্নীতিতে লিপ্ত হচ্ছে। সমাজ থেকে দুর্নীতি দূর করতে হলে সবার আগে ব্যক্তি গঠন ও সৎ চরিত্র অর্জন করতে হবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যার নিজের চরিত্র ঠিক নেই, তাকে যে পদেই বসানো হোক না কেন, সে দুর্নীতি করবেই।
হজ ব্যবস্থাপনায় নিজের মেয়াদের প্রশাসনিক সংস্কারের কথা উল্লেখ করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘অন্তরে আল্লাহর ভয় ছিল বলেই আমরা হজ ব্যবস্থাপনায় সততা বজায় রেখেছি। আমরা বিভিন্ন এজেন্সি এবং হাজিদের টাকা ফেরত দিয়েছি। এছাড়া সৌদি আরবের বাড়িওয়ালাদের সাথে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে আমরা হাজিদের ঘরভাড়ায় বড় অংকের অর্থ সাশ্রয় করেছি।’ তিনি আরও জানান, অপরাধীদের নৈতিক ও আধ্যাত্মিক সংশোধনের জন্য তারা কারাগারগুলোতে ধর্মীয় বই বিতরণ করেছেন এবং ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে হেফজখানা চালু করেছেন।
সৎ উপার্জনের তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, সারা জীবন ঘুষ, সুদ ও ভেজাল ব্যবসা করে শেষ বয়সে হজে যাওয়ার রেওয়াজটি একটি মারাত্মক ভুল। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ডাকাত ও দুর্নীতিবাজদের অবৈধ ও হারাম টাকার হজ আল্লাহ কস্মিনকালেও কবুল করবেন না। একমাত্র হালাল টাকা দিয়ে সৎ উদ্দেশ্যে হজ করলেই জান্নাত পাওয়া সম্ভব।
/কহু