গাইবান্ধার সদর উপজেলার খামার বল্লমঝাড় গ্রামে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী শিশু কুলসুম হত্যা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-১৩। মামলা দায়েরের মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। গ্রেফতার আসামির নাম মো. ইব্রাহিম হাসান লিমন শেখ (২১)।
বুধবার (১৩ মে) সন্ধ্যায় র্যাব-১৩, সিপিসি-৩-এর একটি দল গাইবান্ধা সদর থানার খামার বল্লমঝাড় গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।
গত ২৪ নভেম্বর ২০২৫ খামার বল্লমঝাড় গ্রামে মর্মান্তিক এ ঘটনা ঘটে। সর্দারপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী কুলসুমকে তার শয়নকক্ষের বাঁশের ধরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচানো ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান প্রতিবেশী মো. লিয়ন।
পরে তিনি বাদীর দেবরের ছেলে মো. মেহেদীকে খবর দেন। তারা দুজন মিলে কুলসুমকে নিচে নামিয়ে স্থানীয়দের জানায়। খবর পেয়ে কুলসুমের মা মোছা. রেজিনা বেগম বাড়িতে এসে মেয়ের মরদেহ দেখতে পান।
ঘটনার পর পুলিশ সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠায় এবং সদর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা যায়, কুলসুম আত্মহত্যা করেনি। তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে আসে।
এ ঘটনার পর কুলসুমের মা রেজিনা বেগম গত ১৩ মে ২০২৬ রাত ১২টা ১০ মিনিটে গাইবান্ধা সদর থানায় দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতার আসামি ইব্রাহিম হাসান লিমন শেখের বাড়ি ভিকটিমের বাড়ির পাশেই। তিনি প্রায়ই কুলসুমদের বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং কুলসুমকে উত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঘটনার কয়েকদিন আগে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় র্যাবসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্তে নামে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার( ১৩ মে ) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে র্যাব-১৩-এর একটি দল অভিযান চালিয়ে প্রধান আসামি ইব্রাহিম হাসান লিমন শেখকে গ্রেফতার করে। তার বাবার নাম মো. জহুরুল ইসলাম শেখ।
র্যাবজানিয়েছে, হত্যা, অপহরণ ও ধর্ষণসহ সব ধরনের অপরাধ দমনে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
/এসএকে