সিলেটে ভারতীয় গরুর বন্যায় কোণঠাসা স্থানীয় খামারি

দিপু সিদ্দিকী, সিলেট

সারাদেশ

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিলেটের সীমান্ত এলাকাগুলোতে উৎসবের আমেজের চেয়ে উদ্বেগ বেশি বিরাজ করছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আসা

2026-05-14T17:44:55+00:00
2026-05-14T17:44:55+00:00
 
  বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩
বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
সিলেটে ভারতীয় গরুর বন্যায় কোণঠাসা স্থানীয় খামারি
দিপু সিদ্দিকী, সিলেট
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৫:৪৪ পিএম 
সিলেটে বেপরোয়া চোরাকারবারিরা, দিশেহারা খামারিরা। ছবি : সময়ের আলো
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সিলেটের সীমান্ত এলাকাগুলোতে উৎসবের আমেজের চেয়ে উদ্বেগ বেশি বিরাজ করছে। সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে আসা ভারতীয় গরু ও মহিষের বন্যায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন স্থানীয় খামারি এবং পশুর হাটের ইজারাদাররা। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রভাবশালী এবং প্রশাসনের কিছু অসাধু সদস্যের যোগসাজশে সীমান্ত পেরিয়ে এসব পশু নির্বিঘ্নে পৌঁছে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সিলেটের কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর সীমান্ত উপজেলাগুলো এখন চোরাকারবারিদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন রাত থেকে ভোর পর্যন্ত শত শত ভারতীয় গরু ও মহিষ অবৈধ পথে বাংলাদেশে ঢুকছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের চেকপোস্টের সামনে দিয়েই এসব পশুর গাড়ি চলে যায়, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। স্থানীয় প্রভাবশালী চক্রের ভয়ে সাধারণ মানুষ এ নিয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

Advertisement
অবাধে ভারতীয় পশু প্রবেশের ফলে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন সিলেটের হাজারো প্রান্তিক খামারি। বছরজুড়ে ধার-দেনা করে পশু লালন-পালন করার পর, এখন ন্যায্য দাম পাওয়া নিয়ে তারা চরম সংশয়ে।

জুনেল আহমদ নামে এক খামারি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সারা বছর কষ্ট করে গরু বড় করলাম লাভের আশায়। এখন ভারতীয় গরুতে বাজার সয়লাব। আমাদের আসল টাকা উঠবে কি না, তা নিয়েই আমরা চিন্তিত।

শুধু খামারিরাই নন, লোকসানের আশঙ্কায় আছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশন এলাকার ৫টিসহ জেলার অর্ধশতাধিক পশুর হাটের ইজারাদাররা। তারা বলছেন, অবৈধ পশুর কারণে বৈধ হাটে ক্রেতা কমছে এবং রাজস্ব আদায় ব্যাহত হচ্ছে। তবে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে সিলেট জেলা পুলিশ। তারা দাবি করছেন, অপরাধ দমনে তারা অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।

সিলেট জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রাসেলুর রহমান বলেন, চোরাচালান দমনে আমরা 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছি। পশুর অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নিয়মিত অভিযান চলছে এবং কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রশাসনের আশ্বাস সত্ত্বেও সীমান্ত থেকে বাজার পর্যন্ত চোরাচালানি চক্রের দৌরাত্ম্য কমেনি। ঈদের খুশি যখন দুয়ারে, তখন সিলেটের খামারিদের কপালে এখন চিন্তার ভাঁজ। স্থানীয়দের দাবি, খামারি ও ইজারাদারদের স্বার্থ রক্ষায় সীমান্ত থেকে শুরু করে পশুর হাট পর্যন্ত প্রশাসনের কঠোর ও দৃশ্যমান নজরদারি এখন সময়ের দাবি।

আরবিএন 
  বিষয়:   পবিত্র ঈদুল আজহা  সিলেট  ভারতীয় গরু 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: