ঠাকুরগাঁওয়ের সদর উপজেলার একটি মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে স্ত্রীকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা মানববন্ধন করে মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে দেন।
জানা গেছে, বুধবার ঠাকুরগাঁও সদরের সালন্দর সিংপাড়া তালিমুল কুরআন মাদ্রাসায় স্ত্রী লাভলী বেগমকে নির্যাতনের পর থেকেই পলাতক রয়েছেন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার এ ঘটনার প্রতিবাদে মাদ্রাসার সামনে মানববন্ধন করেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা। পরে তারা মাদ্রাসার প্রতিটি দরজায় তালা ঝুলিয়ে দেন। এ ঘটনায় ঠাকুরগাঁও সদর থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
এলাকাবাসী ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, সালন্দর এলাকার সোলেমান আলীর মেয়ে লাভলী বেগমের সঙ্গে ২০০০ সালে আজহারুল ইসলামের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে দুটি সন্তান রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয়ে লাভলী বেগমের ওপর নিজেদের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতেন স্বামীর পরিবারের সদস্যরা। এতে প্রতিবাদ করলে স্বামী আজহারুল, তার ভাই আলীম ও জাহাঙ্গির এবং বোন আসমা ও নাজমা মিলে তার ওপর নির্যাতন চালাতেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, এ ধরনের ঘটনা দীর্ঘদিন ধরেই ঘটছিল। সম্প্রতি আবারও নির্যাতনের ঘটনা ঘটলে লাভলীর ছেলে জুবায়ের ও মেয়ে আখি এর প্রতিবাদ করে। এরপর তাদের ওপরও নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
গত বুধবার লাভলী বেগমকে মারধরের ঘটনা ঘটলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী। বৃহস্পতিবার তারা প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মানববন্ধন করেন এবং মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে দেন।
এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আজহারুল ইসলাম ও তার ভাই-বোনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সবার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনির হোসেন বলেন, এর আগেও ওই শিক্ষক ও তার ভাই-বোনদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। সাম্প্রতিক ঘটনায় এলাকাবাসী বিক্ষুব্ধ হয়ে মাদ্রাসায় তালা ঝুলিয়ে দিয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আরবিএন