সোনালি ধানের ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে শালিখার মাঠ

শহিদুজ্জামান চাঁদ, শালিখা (মাগুরা)

সারাদেশ

মাগুরার শালিখা উপজেলায় অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠজুড়ে পেকে ওঠা সোনালি ধান দেখে কৃষকদের মুখে

2026-05-14T19:41:48+00:00
2026-05-14T19:41:48+00:00
 
  রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬,
৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
সোনালি ধানের ঘ্রাণে মৌ মৌ করছে শালিখার মাঠ
শহিদুজ্জামান চাঁদ, শালিখা (মাগুরা)
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬, ৭:৪১ পিএম 
বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। ছবি : সময়ের আলো
মাগুরার শালিখা উপজেলায় অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। মাঠজুড়ে পেকে ওঠা সোনালি ধান দেখে কৃষকদের মুখে ফুটেছে হাসি। তবে ফলন ভালো হলেও ধানের বাজারদর কম থাকায় কিছুটা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১৩ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। কৃষকরা আশা করছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যেই তারা ধান কেটে ঘরে তুলতে পারবেন। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের প্রায় সব ফসলি জমিতেই ধান কাটা চলছে। ধান ঘরে তুলতে কৃষি বিভাগও বিভিন্ন সহায়তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

উপজেলার তালখড়ি ইউনিয়নের নাঘোসা, দেলুয়াবাড়ি, ছান্দাড়া ও সোনাডাঙ্গা গ্রামে সবচেয়ে বেশি ধান উৎপাদন হয়ে থাকে।

নাঘোসা গ্রামের কৃষক আব্দুল কাদের মোল্লা এবং গোয়ালখালী গ্রামের কৃষক বাচ্চু মুন্সী জানান, এবার তারা ১২ বিঘা জমিতে বোরো ধানের চাষ করেছেন। গত বছর ১১ বিঘা জমিতে চাষ করেছিলেন। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার ধানের ফলন খুব ভালো হয়েছে। ক্ষেতে প্রতিটি ধানের শীষ সোনার মতো ঝিলিক দিচ্ছে। তবে বাজারে ধানের দাম কম হওয়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। ভালো দাম পেলে তারা লাভবান হবেন বলে আশা করছেন।

আড়পাড়া গ্রামের কৃষক বিদ্যুৎ মন্ডল বলেন, তিনি এক একর জমিতে ধানের আবাদ করেছেন। এর মধ্যে ৪০ শতক জমিতে ব্রি-২৮ এবং বাকি ৬০ শতাংশ জমিতে রেড মিনিকেট জাতের ধান চাষ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় এবার ভালো দামের আশা করছেন তিনি।

চুকিনগর গ্রামের কৃষক রাজিব মন্ডল বলেন, এবার তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছি। ফলন খুব ভালো হয়েছে। তবে ধানের দাম কম, আবার শ্রমিকের মজুরি অনেক বেশি। একজন শ্রমিককে ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে। গ্রামের শ্রমিকরা নিচ্ছেন ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা।

ধান কাটার শ্রমিক নিরব মন্ডল, শরিফুল ইসলাম, ফয়সাল মোল্যা, সিতান্ত রায় ও উদ্যোগ মন্ডলসহ কয়েকজন জানান, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর ধানের ফলন ভালো হয়েছে। শ্রমিকরাও প্রতিদিন মাথাপিছু ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পাচ্ছেন।

সরেজমিনে আড়পাড়া, চুকিনগর, শতখালী, সীমাখালী, বুনাগাতী ও গঙ্গারামপুরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ এলাকায় ধান কাটা প্রায় শেষ পর্যায়ে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় কৃষকরা নির্বিঘ্নে ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজ করছেন। সোনালি ধানের ঘ্রাণে মাঠজুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। প্রচণ্ড গরম উপেক্ষা করেও কৃষক-কৃষাণীরা আনন্দ নিয়ে কাজ করছেন।

মো. আবুল হাসনাত বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে শালিখায় ১৩ হাজার ৫৭৫ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছিল। গড় ফলন ছিল ৪ দশমিক ৮ টন প্রতি হেক্টর। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও একই পরিমাণ জমিতে আবাদ হয়েছে। তবে এবার উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল জাতের চাষ বাড়ায় এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গত বছরের তুলনায় ফলন আরও বাড়বে বলে আশা করছি।

তিনি আরও বলেন, মৌসুমের শুরু থেকেই কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এ বছর বোরো ধানের ফলন ভালো হয়েছে।

আরবিএন 


  বিষয়:   মাগুরা  শালিখা  কৃষি বিভাগ  সোনালি ধান 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: