কুরবানির প্রস্তুতি ও নিয়ত

তোয়াহা হুসাইন

ইসলাম

ঈদুল আজহার আগমনি ধ্বনি শুরু হয়েছে। ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে কুরবানির প্রস্তুতি, পশু কেনার পরিকল্পনা ও হিসাব-নিকাশ। তবে এই বাহ্যিক

2026-05-15T06:06:35+00:00
2026-05-15T06:06:35+00:00
 
  শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬,
৩ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
ইসলাম
কুরবানির প্রস্তুতি ও নিয়ত
তোয়াহা হুসাইন
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৫ মে, ২০২৬, ৬:০৬ এএম 
সংগৃহীত ছবি
ঈদুল আজহার আগমনি ধ্বনি শুরু হয়েছে। ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে কুরবানির প্রস্তুতি, পশু কেনার পরিকল্পনা ও হিসাব-নিকাশ। তবে এই বাহ্যিক প্রস্তুতির আগে সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো অন্তরের প্রস্তুতি- নিয়তকে শুদ্ধ করা, উদ্দেশ্যকে পরিশীলিত করা। 

কুরবানি একটি ইবাদত, তাই এর গ্রহণযোগ্যতা নির্ভর করে একমাত্র নিয়তের ওপর। লৌকিকতা, সামাজিক মর্যাদা প্রদর্শন বা শুধু গোশত প্রাপ্তির উদ্দেশ্যে কুরবানি করলে তা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না। 

পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘এসব পশুর রক্ত ও গোশত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না, বরং তোমাদের তাকওয়াই তাঁর কাছে পৌঁছে’ (সুরা হজ : ৩৭)। 

কেবল কুরবানি নয়, যেকোনো আমলের ফলাফল নির্ভর করে নিয়তের ওপর। নিয়ত বিশুদ্ধ না হলে আমল কবুল হয় না। হাদিসে পরিষ্কার ভাষায় বিবৃত হয়েছে, রাসুল (সা.) বলেন, ‘আমলের ফলাফল নির্ভর করে নিয়তের ওপর। সুতরাং যে ব্যক্তি দুনিয়া লাভের জন্য অথবা কোনো নারীকে বিয়ে করার উদ্দেশ্যে হিজরত করবে সে তা পেয়ে যাবে। 

আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে পাওয়ার জন্য হিজরত করবে সে ও তাঁদের পেয়ে যাবে’ (বুখারি : ৩৮৯৮)। মানুষের সবকিছু হতে হবে শুধু রবের সন্তুষ্টির জন্য। কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কুরবানি, আমার জীবন, আমার মরণ সবই সারা জাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য নিবেদিত।’ (সুরা আনআম : ১৬২)

কুরবানি ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত। এর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একেকটি নেকি দেওয়া হবে। হজরত জায়েদ বিন আরকাম (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, সাহাবায়ে কেরাম রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! এ কুরবানি কী? উত্তরে তিনি বললেন, এটি তোমাদের আদি পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত। 

তাঁরা পুনরায় প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! এতে আমাদের জন্য কী প্রতিদান রয়েছে? উত্তরে তিনি বললেন, কুরবানির পশুর প্রতিটি পশমের বিনিময়ে একটি করে নেকি দেওয়া হবে।

তাঁরা আবারও প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! ভেড়ার পশমের কী বিধান? তিনি বললেন, ভেড়ার প্রতিটি পশমের বিনিময়েও একটি করে নেকি দেওয়া হবে। (ইবনে মাজাহ : ৩১২৭)

সামর্থ্যবান কোনো মানুষের কুরবানি থেকে বিরত থাকা উচিত নয়। আল্লাহ সবার সৃষ্টিকর্তা। মানুষ ও পশু দুটোই আল্লাহর সৃষ্টি। আল্লাহর হুকুমে, আল্লাহর নামে মানুষ পশু কুরবানি করবে- এতেই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও মানুষের সার্থকতা। 

আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘কুরবানির ঈদের দিন মানুষের সব নেক আমলের মধ্যে সর্বাধিক প্রিয় আমল হলো কুরবানি করা। কেয়ামতের ময়দানে জবেহকৃত জন্তু তার শিং, পশম, খুরসহ এসে হাজির হবে। নিশ্চয়ই কুরবানির রক্ত জমিনে পড়ার আগেই আল্লাহর কাছে তা কবুল হয়ে যায়। অতএব তোমরা খুশি মনে আনন্দচিত্তে কুরবানি করো।’ (ইবনে মাজাহ : ৩১২৬)

কুরবানি করলে অতীতের সগিরা গুনাহ মাফ হয়। হজরত আবু সাঈদ খুদুরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) হজরত ফাতেমা (রা.)-কে বলেন, তুমি তোমার কুরবানির জন্তু জবাইয়ের স্থানে উপস্থিত থাকো। কুরবানির পশুর রক্ত মাটিতে পড়ার আগেই তোমার অতীতের সব গুনাহ আল্লাহ ক্ষমা করবেন। 

হজরত ফাতেমা (রা.) বলেন, হে আল্লাহর রাসুল! এই গুনাহ ক্ষমা হওয়ার বিষয়টি আমাদের জন্য নির্ধারিত, নাকি সব মুসলমানের জন্য? নবীজি (সা.) বললেন, আমাদের ও সব মুসলমানের গুনাহ ক্ষমা করা হবে (মুস্তাদরাক হাকিম : ৭৫২৪)। আল্লাহ সবাইকে বোঝার ও আমল করার তওফিক দিন।



  বিষয়:   কুরবানি  প্রস্তুতি  নিয়ত 


Loading...
Loading...
ইসলাম- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: