এবারের ঈদুল আজহা উপলক্ষে রাজকীয় গড়ন আর বিশাল দেহের এক ফ্রিজিয়ান জাতের ষাঁড় প্রস্তুত করেছেন জামালপুরের খামারি রফিকুল ইসলাম। আদর করে তিনি এর নাম রেখেছেন ‘জমিদার’। নামের মতোই তার স্বভাব আর জীবনযাপনও পুরোপুরি রাজকীয়। চার বছর বয়সী এই বিশাল আকৃতির ষাঁড়টিকে দেখতে প্রতিদিন রফিকুলের বাড়িতে ভিড় জমাচ্ছেন উৎসুক মানুষ।
জামালপুর জেলার মেলান্দহ উপজেলার মাহমুদপুর এলাকার খামারি রফিকুল ইসলামের গোয়ালঘরেই চার বছর আগে জন্ম নেয় এই জমিদার। প্রতিদিন তার দুই হাজার টাকার খাবার খায়। শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করে।
খামারি রফিকুল জানান, জমিদারের পেছনে প্রতিদিন খরচ হয় প্রায় দুই হাজার টাকা। বাসি খাবার সে একদমই মুখে নেয় না, প্রতিবারই তার চাই একদম টাটকা খাবার। প্রতিদিন জমিদারের খাদ্যতালিকায় থাকে কলা, হাঁসের ডিম, দেশি ঘাস, ভুট্টা এবং গমের ভুসি। শুধু তাই নয়, জমিদারকে নিয়মিত শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করানো হয়।
রফিকুলের স্ত্রী রোজিনা বেগম বলেন, নিজের সন্তানের মতো করে পরিবারের সবাই মিলে গরুটিকে বড় করেছি। একে লালন-পালন করতে আমাদের অনেক কষ্ট ও খরচ হয়েছে। এবার ভালো একটা দামে বাড়ি থেকেই গরুটিকে বিক্রি করতে চাই।
খামারি জানান, জমিদার এতটাই বিশাল হয়ে উঠেছে যে, তাকে গোয়ালঘর থেকে বের করতে হলে ঘরের দেওয়াল ভাঙতে হবে। দেওয়াল ভাঙা ছাড়া তাকে বাইরে আনা সম্ভব নয়।
গরুটিকে দেখতে আসা স্থানীয় বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম, ময়না আকন্দ ও আজাদ বলেন, এলাকায় এত বড় গরু আগে কখনো দেখা যায়নি। রফিকুল একজন সাধারণ খামারি হয়েও অনেক কষ্ট করে গরুটিকে এত বড় করেছেন। উপযুক্ত দাম পেলে পরিবারটি অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে।
স্থানীয়রা আরও জানান, জমিদার অত্যন্ত শান্ত এবং সে তার মালিকের ভাষা বোঝে। মালিকের ডাকে যেমন সাড়া দেয়, তেমনি কেউ 'দাঁত দেখাতে' বললে সে তার দাঁতও উঁচিয়ে দেখায়।
গেল ঈদে জমিদারের দাম উঠেছিল ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। কিন্তু আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় এবং আরও বড় করার আশায় গতবার তাকে বিক্রি করেননি রফিকুল। এবার কাঙ্ক্ষিত দাম পেলেই জমিদারকে বিক্রি করে দেবেন তিনি।
জামালপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ টি এম হাবিবুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে গরুটির নিয়মিত খোঁজখবর ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ছোট খামারিরাও বড় আকৃতির গরু পালন করে বেশ লাভবান হচ্ছেন। খামারিরা চাইলে সরকারি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে অথবা স্থানীয় পশুর হাটে নিয়ে উপযুক্ত দামে তাদের পশু বিক্রি করতে পারবেন।
সময়ের আলো/জোই