খেলার মাঠ সংকুচিত হওয়ায় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে মাদকাসক্তি বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।
শুক্রবার (১৫ মে) দুপুর ১২টার দিকে সিরাজগঞ্জ কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত এক গুণীজন সংবর্ধনা ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের খেলার মাঠগুলো ছোট হয়ে যাওয়ায় তরুণরা খেলাধুলার সুযোগ হারাচ্ছে। যদি পর্যাপ্ত খেলাধুলার ব্যবস্থা থাকত, তবে পাড়ায় পাড়ায় তরুণরা অলস আড্ডা দিয়ে সময় নষ্ট করত না এবং মাদকের মতো মরণনেশায় আসক্ত হতো না।
তরুণদের বিপথগামিতা রোধে খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, তিনি জেলা প্রশাসককে প্রতিটি স্কুলে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একদিন দুই ঘণ্টা করে খেলাধুলার ক্লাস বাধ্যতামূলক করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এই বিশেষ ক্লাসে ফুটবল ও বাস্কেটবলের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী গ্রামীণ খেলাধুলাকেও অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেন তিনি।
টুকু বলেন, শরীর ভালো না থাকলে মনও ভালো থাকে না, তাই শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য মাঠের গুরুত্ব অপরিসীম। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার চেষ্টা করছেন এবং খেলাধুলার মাধ্যমে তরুণদের স্বাস্থ্য রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছেন।
শিক্ষার গুরুত্ব নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে মন্ত্রী তার পারিবারিক ইতিহাসের উদাহরণ টানেন। তিনি বলেন, শেখার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই এবং শিক্ষা এমন এক অমূল্য সম্পদ যা কেউ কখনো কেড়ে নিতে পারে না।
তিনি জানান, ১৯২৪ সালে সিরাজগঞ্জে কলেজ না থাকা সত্ত্বেও তার দাদা একজন সাধারণ কৃষিজীবী হয়েও তার সন্তানকে উচ্চশিক্ষার জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠিয়েছিলেন। সেই সময়ের কৃষিজীবী মানুষেরাও সন্তানকে সুশিক্ষিত ও ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখতেন, যা বর্তমান প্রজন্মের জন্য একটি বড় অনুপ্রেরণা হতে পারে।
আগামী প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর সিরাজগঞ্জ রেখে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, এই দেশটা শুধু আমাদের নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের। আমরা একসময় চলে যাব, কিন্তু আমি চাই সিরাজগঞ্জকে এমন এক উচ্চতায় রেখে যেতে যাতে পরবর্তী প্রজন্ম এটি নিয়ে গর্ব করতে পারে।
সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার নাজরান রউফ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন খান এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চুসহ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দ।
সময়ের আলো/টিএইচ