ইরান যুক্তরাষ্ট্রকে মোটেও বিশ্বাস করতে পারে না এবং এই গভীর অনাস্থাই যেকোনো কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পথে প্রধান অন্তরায় বলে জানিয়েছেন, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ।
শুক্রবার (১৫ মে) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে চলমান ব্রিকস সম্মেলনের এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন।
আরাগচি বলেন, বর্তমানে একটি অত্যন্ত ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চলছে এবং ইরান এটি বজায় রাখার চেষ্টা করছে যাতে আলোচনার মাধ্যমে একটি কূটনৈতিক সমাধান খুঁজে পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। তবে যেকোনো চুক্তিতে পৌঁছানোর আগে সবকিছু অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট এবং স্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত হতে হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
সংবাদ সম্মেলনে আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিদিন ভিন্ন ভিন্ন বার্তা আসে এবং অনেক সময় একই দিনে পরস্পরবিরোধী দুটি বার্তাও পাওয়া যায়। ওয়াশিংটনের এমন আচরণ দ্বিপাক্ষিক অনাস্থাকে আরও গভীর করছে বলে তিনি মনে করেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরান এই নাজুক যুদ্ধবিরতি টিকিয়ে রাখার পক্ষপাতী যাতে কূটনীতির একটি পথ খোলা থাকে, কিন্তু মার্কিনদের অস্থির বার্তার কারণে সেই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আরাগচির মতে, কোনো নির্দিষ্ট সমঝোতা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়া ইরানের পক্ষে সম্ভব নয়।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আরাগচি জানান, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী বর্তমানে উন্মুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, সকল দেশের নৌযান এই প্রণালী দিয়ে চলাচল করতে পারবে, তবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত দেশগুলোর জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।
তার এই বক্তব্যে মূলত ইরানের প্রতিরক্ষা নীতির একটি কঠোর অবস্থান ফুটে উঠেছে, যেখানে তারা নিজেদের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত আসতে পারে এমন শক্তির ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দিতে রাজি নন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, বিশেষ করে যখন বিশ্বনেতারা ব্রিকস সম্মেলনে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে আলোচনা করছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের বৈরিতা নিরসনে কূটনীতির কথা বলা হলেও আরাগচির বক্তব্যে একটি বিষয় পরিষ্কার, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা না পাওয়া পর্যন্ত তেহরান বড় কোনো চুক্তির দিকে এগোবে না। বর্তমানের ‘ভঙ্গুর’ যুদ্ধবিরতি কতদিন স্থায়ী হবে, তা এখন দেশ দুটির পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে।
সূত্র: সিবিএস নিউজ
সময়ের আলো/টিএইচ