স্বামীকে হত্যার পর টুকরো করে ফ্রিজে রাখার চেষ্টা, স্ত্রী আটক

শরীয়তপুর সংবাদদাতা

সারাদেশ

শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে ফ্রিজে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর শরীরের

2026-05-16T09:22:35+00:00
2026-05-16T09:22:35+00:00
 
  শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬,
১ কার্তিক ১৪৩৩
শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
সারাদেশ
স্বামীকে হত্যার পর টুকরো করে ফ্রিজে রাখার চেষ্টা, স্ত্রী আটক
শরীয়তপুর সংবাদদাতা
প্রকাশ: শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ৯:২২ এএম 
সংগৃহীত ছবি
শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে ফ্রিজে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। হত্যাকাণ্ডের পর শরীরের হাড়ের অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়ে মাংসের টুকরোগুলো ফ্রিজে রাখতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের হাতে ধরা পড়েন অভিযুক্ত নারী।

গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাতে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস ঘটনাটি পুরো জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুর সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার। প্রায় আট বছর আগে মুঠোফোনে পরিচয়ের সূত্র ধরে তাদের বিয়ে হয়। এটি তাদের উভয়েরই দ্বিতীয় বিয়ে ছিল।

দীর্ঘদিন ধরেই এই দম্পতির মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল, যা সম্প্রতি চরম আকার ধারণ করে। গত মঙ্গলবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে আসমা আক্তার তার স্বামী জিয়া সরদারের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই জিয়ার মৃত্যু হয়।


হত্যাকাণ্ড আড়াল করতে আসমা ছুরি দিয়ে মরদেহ কেটে কয়েক টুকরো করেন এবং হাড় থেকে মাংস আলাদা করেন। এরপর হাড়গুলো একটি ড্রামে ভরে প্রায় তিন দিন ঘরে রেখে দেন। শুক্রবার (১৫ মে) সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশা ভাড়া করে বস্তাবন্দি হাড়গুলো বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন আসমা। এরপর মরদেহের মাংসের অংশগুলো তিনি শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার তার আগের ভাড়া বাসায় নিয়ে ফ্রিজে রাখার চেষ্টা করেন।

এ সময় মাংস থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। তারা তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ কল করে পুলিশকে বিষয়টি জানান। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আসমাকে আটক করে।

আটক হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার স্বামীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে একই দিন বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকেও নিহতের হাত ও পায়ের চারটি অংশ উদ্ধার করা হয়।

নিহতের ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালীন ওই নারীকে বিয়ে করেছিলেন। দেশে ফিরে তিনি আলাদা বাসায় থাকতেন। খবর পেয়ে এসে দেখি আমার ভাইকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা এই খুনের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

শরীয়তপুর সদর পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম জানান, স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রেখেছিলেন ওই নারী। পরবর্তীতে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্ত নারীকে আটক করা হয়েছে এবং তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী মরদেহের বিভিন্ন খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   স্বামী  হত্যা  টুকরো  ফ্রিজ  স্ত্রী  আটক  শরীয়তপুর 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: