কোরবানির ঈদে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে গ্রামের নতুন ঘরে ফিরবেন—এমনই স্বপ্ন ছিল মো. কালামের। দীর্ঘ ৩০ বছরের সংগ্রামে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভ্রাম্যমাণভাবে সবজি বিক্রি করে গ্রামের বাড়িতে একটি পাকা ঘর নির্মাণ করেছিলেন তিনি। ছাদের কাজ এখনো অসমাপ্ত। তবুও সেই ঘরেই পরিবার নিয়ে ঈদ করার প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই ভয়াবহ গ্যাসলাইন বিস্ফোরণে একে একে নিভে গেল পুরো রিবার। জীবিত নয়, স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে কফিনবন্দি হয়ে গ্রামের বাড়ি ফিরেছেন কালাম।
শনিবার (১৬ মে) থাকা স্ত্রী ও ৩ ন্তানদের মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা ঘটে। সকাল ১০টায় উত্তর নকদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে কালামের কবরের পাশেই স্ত্রী ও সন্তানদের দাফন করা হয়। এর আগে গত সোমবার (১১ মে) গ্রামের বাড়িতে কামালের দাফন সম্পন্ন হয়।
গত রোববার (১০ মে) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় গ্যাসলাইনের লিকেজ থেকে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কনকদিয়া গ্রামের চান্দে আলীর ছেলে মো. কালাম (৪৫), তার স্ত্রী সায়মা বেগম (৩৫), দুই মেয়ে মুন্নি (১০) ও কথা (৪), এবং একমাত্র ছেলে মুন্না (৭) একই পরিবারের পাঁচজনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
বিস্ফোরণের পর তাদের ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার মারা যান মো. কালাম। এরপর বুধবার মারা যায় ছোট মেয়ে কথা। বৃহস্পতিবার সকালে মারা যায় ছেলে মুন্না এবং দুপুরে মারা যায় বড় মেয়ে মুন্নি। সর্বশেষ শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান স্ত্রী সায়মা।
একই পরিবারের পাঁচ সদস্যের এমন করুণ মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে উত্তর কনকদিয়া গ্রাম। স্থানীয়দের ভাষ্য, অত্যন্ত পরিশ্রমী ও শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিলেন কামাল। অল্প আয়েও পরিবারের জন্য নিরলস পরিশ্রম করতেন তিনি। গ্রামের বাড়িতে নিজের একটি ঘর নির্মাণ ছিল তার বহুদিনের স্বপ্ন।
পারিবারিক সূত্র ও স্থানীয়রা জানান, প্রায় তিন দশক ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন কালাম। জীবিকার তাগিদে তিনি ভ্রাম্যমাণভাবে সবজি বিক্রি করতেন। স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।
সময়ের আলো/জোই