নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে জেরা (JERA) মেঘনা ঘাট বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্যান্টিনে গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণে ১২ জন দগ্ধের ঘটনায় আমির ব্যাপারী(২৫) নামে আরও একজন মারা গেছেন। তিনি ওই ক্যান্টিনের কর্মচারী ছিলেন। এই ঘটনায় দুজনের মৃত্যু হলো। শনিবার (১৬ মে) সকাল ১০টার দিকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
বার্ন ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, আমিরের শরীরের ৮০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। সাথে শ্বাসনালীও দগ্ধ হয়েছিল। এই ঘটনায় ৬ জনকে বুধবারই ছুটি দেয়া হয়েছে। বর্তমানে নাজমুল ১৩ শতাংশ, সুপ্রভাত ঘোষ ১২ শতাংশ, আল আমিন ২২ শতাংশ ও কাওছার ৫৯ শতাংশ দগ্ধ নিয়ে ভর্তি আছে।
এরআগে গত বুধবার (১৩ মে) দুপুর ১টার আগুনের ঘটনাটি ঘটে। এতে দগ্ধ হন, বিদ্যুৎকেন্দ্রের কর্মকর্তা নাজমুল আলম খান (৪০), সাইফুল ইসলাম (৩০), রামিজুল (৪৫), তুহিন শেখ (৩০), মনির হোসেন (৪৫), ওসমান গনি (৩০), সুপ্রভাত ঘোষ (৪২) বদরুল হায়দার (৫০)। এবং ক্যান্টিন কর্মচারী মো. আমির (২৫) শংকর (২৫) কাওছার (৩০), আলআমিন (৪৫)।
বিদ্যুৎকেন্দ্রের সেফটি কর্মকর্তা ফখরুল ইসলাম বলেন, ক্যান্টিনের বুফে দুপুরে খাবার খাওযার জন্য সিরিয়াল ধরেছিলেন। তখন কিচেনের ভিতরে একটি বিস্ফোরণ হয়। এতে ক্যান্টিন বয় সহ থাকা ১২ জন দগ্ধ হয়। সঙ্গে সঙ্গে তাদেরকে উদ্ধার করে ঢাকায় বার্ন ইনস্টিটিউটে নিয়ে আসা হয়। রান্না শেষে কেউ একজন গ্যাসের চুলা চালু করে রেখেছিল। এরপর ম্যাচ জ্বালাতেই বিস্ফোরনে আগুন ধরে যায়।
মৃতের ভাই দুলাল রোজারিও জানান, তাদের বাড়ি নাটোর জেলার বড়াইগ্রাম উপজেলার চিটাগুড়ি দিয়ারপাড়া গ্রামে। বাবার নাম জোসেফ গোমেজ রোজারিও। বর্তমানে শঙ্কর সোনারগাঁওয়ে থাকতো এবং ক্যান্টিনে কাজ করতো।
মৃত আমির ব্যাপারীর ভাই লিটন ব্যাপারী বলেন, তাদের বাড়ি শরিয়তপুর জেলার গোসাইরহাট উপজেলার বাসুদেবচাপ গ্রামে। বর্তমানে সোনারগাঁও এলাকায় থাকতো এবং পাওয়ার প্লান্টের ক্যান্টিনে কাজ করতো।
আরবিএন